Site icon A2News24 Live Sports Scores Breaking News Politics Entertainment

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক: ট্রাম্পের নীতি ও নিরাপত্তা শঙ্কায় উত্তাল বিশ্ব ফুটবল

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক

স্পোর্টস ডেস্ক: মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনও মাস পাঁচেক বাকি। কিন্তু তার আগেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে কালো মেঘ। যৌথভাবে আয়োজক দেশ হিসেবে আমেরিকার নাম থাকলেও, দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক বিতর্কিত নীতি ও কঠোর অভিবাসন আইনের প্রতিবাদে এবার বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিচ্ছে ইউরোপের তিন ফুটবল পরাশক্তি— ডেনমার্ক, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস।

কেন এই বয়কটের ডাক? বিশ্বকাপের মোট ১১৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৪টিই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আমেরিকায়। কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে যে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে, তাতে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন দেশ। বিশেষ করে সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ইরান এবং হাইতির মতো দেশগুলো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও তাদের সমর্থকদের আমেরিকায় প্রবেশ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের কারণে ডেনমার্কের সাথে আমেরিকার কূটনৈতিক দূরত্ব বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ফুটবল মাঠে। ডেনমার্ক ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিয়েছে। জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডসও এই দাবিতে সংহতি প্রকাশ করেছে। নেদারল্যান্ডসের প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ এক পিটিশনে সই করে দাবি জানিয়েছেন যে, অভিবাসীদের ওপর সহিংসতার আশঙ্কায় তাদের দলের এই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ফিফার স্বাধীন পরিচালন কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সুইজারল্যান্ডের প্রখ্যাত আইনজীবী মার্ক পিয়েত ফুটবলপ্রেমীদের পরামর্শ দিয়েছেন আমেরিকা থেকে দূরে থাকার জন্য। তার মতে, বর্তমান সীমান্তে পর্যটকদের যে পরিমাণ হেনস্থা হতে হচ্ছে, তাতে সেখানে যাওয়া নিরাপদ নয়। ফিফার সাবেক প্রেসিডেন্ট শেপ ব্লাটারও এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে মত দিয়েছেন।

চাপে ফিফা ও আমেরিকা ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুসম্পর্কের কথা সবারই জানা। ট্রাম্পকে ফিফার পক্ষ থেকে শান্তি পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম রাখা সত্ত্বেও ফিফা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে ইউরোপের বড় দলগুলোর বয়কটের হুমকিতে এখন বড় ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপে পড়েছে ফিফা।

Exit mobile version