স্পোর্টস ডেস্ক: ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে আয়োজিত হতে যাওয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের একটি হুমকি ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার যে অনড় অবস্থান নিয়েছে, তা তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণ হতে পারে। আইসিসি ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলে পাকিস্তানকে বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা আইসিসির লভ্যাংশ হিসেবে পাকিস্তান প্রতি বছর প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা পেয়ে থাকে। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে এই বিশাল অংকের টাকা থেকে তারা বঞ্চিত হতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য এই অর্থের গুরুত্ব অপরিসীম।
নির্বাসন ও হাইব্রিড মডেলের ইতি পিসিবি তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলার জন্য আইসিসির কাছ থেকে ‘হাইব্রিড মডেল’ আদায় করেছে। কিন্তু বিশ্বকাপ বয়কট করলে ভবিষ্যতে আর কখনোই তারা এ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবে না। এছাড়া, যদি প্রমাণ হয় যে সরকারের হস্তক্ষেপে পিসিবি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে জিম্বাবুয়ে বা শ্রীলঙ্কার মতো পাকিস্তানকেও অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাসিত করতে পারে আইসিসি। এমনকি এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) তাদের এশিয়া কাপ থেকেও বহিষ্কার করতে পারে।
পিএসএল ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ শঙ্কা পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে ক্রিকেট বিশ্বে একঘরে হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অনেক দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে অসম্মতি জানাতে পারে। এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) বড় আকর্ষণ বিদেশি ক্রিকেটাররা। আইসিসির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে বিদেশি বোর্ডগুলো তাদের খেলোয়াড়দের পিএসএলে খেলার জন্য ছাড়পত্র (NOC) নাও দিতে পারে, যা এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটির অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়কটের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের ক্রিকেটের স্বার্থেই পাকিস্তানকে হয়তো পিছু হটতে হতে পারে।
