নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিক গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি এখন শেষ ধাপে পৌঁছেছে।
গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেট জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গেজেটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম, পিতা ও মাতার নাম এবং ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণত নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর ইসি সচিবালয় সব তথ্য যাচাই করে এই সরকারি গেজেট প্রকাশ করে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
Read More: সোমবার বা মঙ্গলবারই নতুন সরকার: সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন সিইসি, প্রস্তুত বঙ্গভবন
শপথ গ্রহণ ও সাংবিধানিক বিশেষত্ব প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এবারের শপথ অনুষ্ঠানে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান। কিন্তু ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুপস্থিতির কারণে এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন। সংসদ সদস্যদের শপথের দিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংসদীয় আসনের বর্তমান চিত্র গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের ফলাফল বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। গেজেটে বর্তমানে এই ২৯৭ জন বিজয়ীর নামই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ক্ষমতা হস্তান্তর ও আগামীর পথ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত দেড় বছর ধরে দেশের সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করেছে। এখন দ্রুততম সময়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত প্রশাসন। বঙ্গভবন ও গণভবনে এখন নতুন সরকার গঠনের সাজ সাজ রব। দেশের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, এই নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে দেশে একটি স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
উপসংহার গেজেট প্রকাশের পর এখন সবার চোখ সোমবারের শপথ অনুষ্ঠানের দিকে। দীর্ঘ সময় পর একটি নির্বাচিত সংসদ কার্যকর হতে যাওয়ায় রাজপথের রাজনীতিতে যেমন চাঞ্চল্য ফিরেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ডালপালা মেলছে নতুন প্রত্যাশা। নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন এবং আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটবে—এটাই এখন দেখার বিষয়।
