Home Technology ইনকগনিটো মোডেও নজরদারি? ২ বিলিয়ন ডলারের মামলায় বড় জয় পেল গুগল

ইনকগনিটো মোডেও নজরদারি? ২ বিলিয়ন ডলারের মামলায় বড় জয় পেল গুগল

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, A2News24: ইন্টারনেটে গোপনীয়তা রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার মনে করা হয় গুগল ক্রোমের ‘ইনকগনিটো মোড’কে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ধারণা, এই মোডে ব্রাউজ করলে তাদের কার্যকলাপ কেউ দেখছে না। কিন্তু এই মোডেও গোপনে ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে বিশাল অঙ্কের মামলার মুখে পড়েছিল টেক জায়ান্ট গুগল। অবশেষে সেই ২ বিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা) মামলায় বড় ধরনের আইনি বিজয় পেল কোম্পানিটি।

মামলার প্রেক্ষাপট ও গুরুতর অভিযোগ গুগল ক্রোমের ‘ইনকগনিটো’ বা অন্যান্য ব্রাউজারের প্রাইভেট মোড চালু থাকলে ব্যবহারকারীরা সাধারণত মনে করেন তারা অনলাইনে অদৃশ্য। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, ব্যবহারকারীরা যখন এই মোডে থাকেন, তখনও গুগল গোপনে তাদের ব্রাউজিং ডেটা এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। এই কার্যকলাপকে ‘অবৈধ আড়ি পাতা’ বা গোপনীয়তা লঙ্ঘন দাবি করে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে গুগলের বিরুদ্ধে একটি ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়। বাদীরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন।

আদালতের রায় ও বিচারকের পর্যবেক্ষণ দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মার্কিন জেলা বিচারক ইভন গঞ্জালেজ রজার্স এই মামলায় গুগলের পক্ষে রায় দিয়েছেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। আদালতের মতে, বাদীরা (ব্যবহারকারীরা) গুগলের পরিষেবা ব্যবহারের সময় তাদের প্রাইভেসি পলিসি বা গোপনীয়তা নীতিতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সেই নীতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, গুগল তাদের ডেটা সংগ্রহ করতে পারে।

বিচারক আরও বলেন, গুগল ব্যবহারকারীদের মধ্যে এমন কোনো ভুল ধারণা তৈরি করেনি যে ‘ইনকগনিটো মোড’ মানে খোদ গুগলের কাছেও পুরোপুরি অদৃশ্য থাকা। যেহেতু গুগল নিজেই এই পরিষেবার প্রদানকারী, তাই তাদের সিস্টেমে তথ্য যাওয়াকে ফেডারেল আইন অনুযায়ী ‘অবৈধ আড়ি পাতা’ বলা যায় না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কতা ও প্রভাব বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একটি বিশাল অংশ গুগল ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহার করেন। অনেকেই ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখতে ইনকগনিটো মোডের ওপর অন্ধভাবে ভরসা করেন। এই মামলার রায়টি বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, ‘প্রাইভেট’ বা ‘ইনকগনিটো’ মোড মানেই আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP), আপনার অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগ, কিংবা খোদ গুগলের কাছ থেকে আপনার কার্যকলাপ লুকিয়ে রাখা নয়। এই মোড মূলত আপনার নিজের ডিভাইসে ব্রাউজিং হিস্ট্রি, কুকিজ বা সাইট ডেটা সেভ হওয়া বন্ধ করে মাত্র। তাই অনলাইনে সংবেদনশীল কাজ করার সময় বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের এখন থেকে আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

উপসংহার এই রায় গুগলের জন্য একটি বড় আইনি স্বস্তি বয়ে এনেছে এবং তাদের ব্যবসায়িক মডেলের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ডেটা প্রাইভেসি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান বিতর্কের এখানেই শেষ নয়। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহার করছে, তা নিয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠতে পারে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version