প্রযুক্তি ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল তাদের স্মার্টফোন রিলিজের গতানুগতিক বার্ষিক চক্রে এক বড় ধরণের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে আইফোনের সবকটি ভ্যারিয়েন্ট একসাথে বাজারে আসলেও, আইফোন ১৮ সিরিজের ক্ষেত্রে এই ধারায় ছেদ পড়তে যাচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আইফোন ১৮-এর স্ট্যান্ডার্ড বা সাধারণ মডেলটির লঞ্চ পিছিয়ে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রো মডেলের ব্যবহারকারী এবং যারা ভাঁজ করা আইফোনের জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য সুখবর রয়েছে।
কেন এই বিলম্ব? কারণ ও প্রেক্ষাপট নিক্কেই এশিয়া এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন (Supply Chain) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনের জটিলতা এবং যন্ত্রাংশের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতেই অ্যাপল এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে এআই (AI) প্রযুক্তির প্রসারের ফলে মেমরি চিপসহ অন্যান্য হার্ডওয়্যারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাপল চাইছে তাদের প্রিমিয়াম এবং উচ্চ-লাভজনক ডিভাইসগুলোকে প্রথমে বাজারে এনে উৎপাদন ব্যয় ও বিপণন ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখতে।
২০২৬-এ আসছে আইফোন ফোল্ড ও প্রো মডেল আইফোন ১৮ সিরিজের স্ট্যান্ডার্ড মডেল পিছিয়ে গেলেও, প্রিমিয়াম আইফোন ১৮ প্রো, প্রো ম্যাক্স এবং অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ফোল্ড’ ২০২৬ সালের শেষার্ধেই বাজারে আসবে। অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা ফোনটি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক উদ্দীপনা রয়েছে। এই ফোনের জটিল উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতেই অ্যাপল তাদের সাধারণ মডেলের উৎপাদন কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
আরো পড়ুনঃ বাজারে আসছে ভাঁজ করা আইফোন: ২০২৬ সালে বড় চমক দিতে পারে অ্যাপল
বাংলাদেশি গ্রাহকদের ওপর প্রভাব বাংলাদেশের আইফোন প্রেমীদের জন্য এই খবরটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত নতুন আইফোন আসার পর স্ট্যান্ডার্ড মডেলটির জনপ্রিয়তা আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি থাকে। লঞ্চ পিছিয়ে যাওয়ার ফলে যারা নিয়মিত ফোন পরিবর্তন করেন, তাদের ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে অথবা ২০২৬-এই বাজারে আসা প্রো মডেল বা নতুন ফোল্ডেবল সংস্করণে সুইচ করতে হতে পারে। তবে অ্যাপল যদি যন্ত্রাংশের দাম বাড়া সত্ত্বেও রিটেইল দাম স্থিতিশীল রাখতে পারে, তবে সেটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর হবে।
উপসংহার: স্মার্টফোন বাজারের নতুন ট্রেন্ড অ্যাপলের এই সিদ্ধান্ত কেবল তাদের নিজস্ব কৌশলের অংশ নয়, বরং এটি পুরো স্মার্টফোন শিল্পের একটি নতুন ট্রেন্ড নির্দেশ করছে। উদ্ভাবন এবং স্থায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে কোম্পানিগুলো এখন আর কেবল বার্ষিক লঞ্চের ওপর নির্ভর করছে না। আইফোন ১৮ স্ট্যান্ডার্ড মডেলের এই বিলম্ব অ্যাপলকে তাদের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনটিকে আরও নিখুঁত করার সুযোগ দেবে। ২০২৬ সালের শেষে যখন আইফোন ফোল্ড বাজারে আসবে, তখন সেটি স্মার্টফোনের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে।
