Home Technology কিস্তিতে স্মার্টফোন বিক্রির বৈপ্লবিক অনুমোদন দিল বিটিআরসি

কিস্তিতে স্মার্টফোন বিক্রির বৈপ্লবিক অনুমোদন দিল বিটিআরসি

0
কিস্তিতে স্মার্টফোন বিক্রির বৈপ্লবিক অনুমোদন দিল বিটিআরসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪: দেশের ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে এবং প্রযুক্তির সুফল একদম প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এখন থেকে সাধারণ মানুষ মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে সহজ কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নীতিমালাটি চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

সবার জন্য স্মার্টফোন: বিটিআরসি-র নতুন ফ্রেমওয়ার্ক বিটিআরসি-র সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর— গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক এবং টেলিটক এখন থেকে বিটিআরসি অনুমোদিত স্মার্টফোনগুলো কিস্তিতে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতে পারবে। মূলত যারা এককালীন অর্থ দিয়ে দামী স্মার্টফোন কিনতে পারতেন না, তাদের স্মার্টফোন ব্যবহারের স্বপ্ন পূরণ করতেই এই উদ্যোগ।

আরো পড়ুনঃ স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর ফেব্রুয়ারি: বাজারে আসছে শক্তিশালী ৭টি নতুন ফোন

কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? এই প্রক্রিয়ায় অপারেটরদের ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে উন্নত ‘সিম-লক’ প্রযুক্তি। নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রাহক যদি সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তবে অপারেটররা ফোনের সিম বা নেটওয়ার্ক স্লটগুলো লক করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে। কিস্তি সম্পূর্ণ পরিশোধ হওয়ার পর ফোনটি স্থায়ীভাবে আনলক করে দেওয়া হবে। এর আগে কেবল আংশিক লকের অনুমতি থাকলেও, নতুন নীতিমালায় পূর্ণাঙ্গ লকের বিধান রাখা হয়েছে যাতে অপারেটরদের ঝুঁকি কমে।

ডিজিটাল বিভাজন নিরসনে প্রভাব প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি সেবা গ্রহণ, ই-কমার্স এবং অনলাইন শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার এর ফলে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। স্মার্টফোনের মালিকানা বাড়লে ডেটা ব্যবহারের হারও বাড়বে, যা দেশের টেলিকম খাতের সামগ্রিক রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ বিটিআরসি জানিয়েছে, বাজারে অবৈধ ও অনুমোদনহীন ফোনের ব্যবহার ঠেকাতেও এই নীতিমালা সহায়ক হবে। কারণ অপারেটররা কেবল বৈধভাবে আমদানিকৃত বা দেশি কারখানায় তৈরি ফোনই এই প্রকল্পের আওতায় গ্রাহকদের দেবে। তবে কিস্তির সুদের হার এবং ডাউন পেমেন্টের পরিমাণ যেন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে, সেদিকে সতর্ক নজর রাখার দাবি জানিয়েছেন প্রযুক্তি প্রেমীরা।

উপসংহার: কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ? অপারেটররা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের সাথে চুক্তি শুরু করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সারা দেশের রিটেইল পয়েন্টগুলোতে কিস্তিতে ফোন কেনার প্রক্রিয়াটি পুরোদমে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে ২০২৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশের স্মার্টফোন পেনিট্রেশন রেট বা ব্যবহারের হার নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version