ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: ক্রিকেটের দুনিয়ায় এক দুয়ার বন্ধ হলে অন্য হাজারো দুয়ার খুলে যায়—মুস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রে এটি আবারও প্রমাণিত হলো। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় লিগ আইপিএলের সবশেষ নিলামে যখন কোনো দল বাংলাদেশের এই ‘কাটার মাস্টার’কে নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি, তখন তার কদর বুঝল পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। ২০২৬ সালের পিএসএলের আসরে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লহোর কালান্দার্স।
নিলামের ট্র্যাজেডি বনাম নতুন সম্ভাবনা চলতি মৌসুমে আইপিএলে মুস্তাফিজ দল না পাওয়ায় তার ভক্তরা বেশ হতাশ ছিলেন। বিশেষ করে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে গত আসরে দুর্দান্ত বোলিং করার পরও তার প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অনাগ্রহ অবাক করার মতো ছিল। তবে মুস্তাফিজের সামর্থ্যে পূর্ণ আস্থা রেখেছে লহোর কালান্দার্স। পাকিস্তান সুপার লিগের অন্যতম সফল এই দলটি তাদের বোলিং লাইনআপকে আরও শক্তিশালী করতে মুস্তাফিজের অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্যকে কাজে লাগাতে চায়।
লহোরের পেস আক্রমণে নতুন শক্তি লহোর কালান্দার্স ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বমানের পেস বোলারদের পছন্দের দল। শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফদের মতো গতিদানবদের পাশে মুস্তাফিজের মন্থর গতির মারণাস্ত্র এবং স্লাইসার কাটার এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে ডেথ ওভারে রান আটকে রাখা এবং উইকেট শিকারের ক্ষমতার কারণে লহোর কর্তৃপক্ষ তাকে পেতে মরিয়া ছিল। লহোরের ঘরের মাঠে মুস্তাফিজের এই বাঁহাতি বোলিং প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ও মুস্তাফিজের প্রস্তুতি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে মুস্তাফিজের জন্য পিএসএলের এই মঞ্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক সময়ে মুস্তাফিজের বোলিংয়ে কিছুটা উঠানামা দেখা দিলেও, পিএসএলের মতো হাই-ভোল্টেজ টুর্নামেন্টে খেলা তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এটি বড় আনন্দের সংবাদ, কারণ তারা আবারও তাদের প্রিয় ‘দ্য ফিজ’কে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে লড়তে দেখবেন।
উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? পিএসএল ২০২৬-এর এই যাত্রা মুস্তাফিজের ক্যারিয়ারের জন্য এক টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। যদি লহোরের জার্সিতে তিনি তার চেনা ছন্দে ফিরতে পারেন, তবে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য সেটি হবে একটি শক্তিশালী জবাব। ভক্তদের প্রত্যাশা, শাহীন আফ্রিদির নেতৃত্বে মুস্তাফিজ তার সেরাটা উজাড় করে দেবেন এবং লহোর কালান্দার্সকে আরও একটি শিরোপা জয়ে সাহায্য করবেন। ফিজের নতুন এই মিশনের দিকে এখন তাকিয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ।
