Home Politics পল্লবী তে হৃদয়বিদারক দৃশ্য: এক ঘরেই মিলল স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশুর প্রাণহীন...

পল্লবী তে হৃদয়বিদারক দৃশ্য: এক ঘরেই মিলল স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশুর প্রাণহীন দেহ

0
পল্লবী তে হৃদয়বিদারক দৃশ্য: এক ঘরেই মিলল স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশুর প্রাণহীন দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার এক চরম শোকাবহ ও রহস্যজনক ঘটনার সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। একটি পরিত্যক্ত ভবনের ঘর থেকে একই পরিবারের চারজন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের দুই অবুঝ শিশু সন্তান। প্রাথমিক আলামত ও স্বজনদের দাবি অনুযায়ী, অভাব-অনটন এবং জীবনযুদ্ধের ক্লান্তিই হয়তো এই পরিবারটিকে এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ঘটনাস্থলের চিত্র ও পরিচয় মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের কালশী রোড সংলগ্ন পরিত্যক্ত ওয়াপদা ভবনের নিচতলায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন মাসুম (৩৫), তাঁর স্ত্রী সুমি (৩০) এবং তাঁদের দুই শিশু সন্তান—৪ বছর বয়সী মিনহাজ ও ২ বছর বয়সী আসহাব। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ফ্যানের সাথে মাসুমের ঝুলন্ত লাশ এবং বিছানায় স্ত্রী ও দুই সন্তানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে।

অভাবের কালো ছায়া: পুলিশের প্রাথমিক ধারণা পল্লবী অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিঞ্চার মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, মাসুমের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই চরম আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অভাবের যন্ত্রণায় দিশেহারা হয়ে মাসুম প্রথমে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরে নিজে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ রমজানে অফিস সময় পুনর্বিন্যাস: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি

স্বজনদের ভিন্ন দাবি তবে মাসুমের ফুপাতো ভাই মান্না এই ঘটনার একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মাসুম বেনারসি শাড়ির কারচুপির কাজ করার পাশাপাশি রিকশাও চালাতেন। অভাব এতটাই তীব্র ছিল যে, জীবন চালানো দায় হয়ে পড়েছিল। মান্নার ধারণা, মাসুমের স্ত্রী হয়তো প্রথমে সন্তানদের বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন এবং নিজে বিষপান করেছেন, যা দেখে পরে মাসুম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। যদিও বিষক্রিয়া নাকি শ্বাসরোধ—তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? একটি সাজানো-গোছানো পরিবারের এভাবে নিভে যাওয়ার পেছনে কেবল দারিদ্র্য নাকি অন্য কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ আছে, তা নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। পরিত্যক্ত ভবনে এমন অবমানবিক পরিস্থিতিতে বসবাস করা এই পরিবারটির ট্র্যাজেডি সমাজের বর্তমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের দিকেই আঙ্গুল তুলছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশের ফরেনসিক তদন্তই বলে দেবে ঠিক কী ঘটেছিল সেই রুদ্ধদ্বার ঘরে। আপাতত পুরো কালশী এলাকায় বিরাজ করছে এক থমথমে নীরবতা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version