বিনোদন ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: গ্ল্যামার আর বক্স অফিসের ঝনঝনানি কি তবে গিলে খাচ্ছে সিনেমার আসল প্রাণ বা শিল্পকে? বলিউডের অন্দরমহলে এই প্রশ্নটি অনেকদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। এবার সেই আগুনেই ঘি ঢাললেন জনপ্রিয় অভিনেতা শহীদ কাপুর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, সিনেমার সৃজনশীলতার চেয়ে ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা হিন্দি সিনেমার অপূরণীয় ক্ষতি করছে।
শিল্প বনাম ব্যবসা: শহীদের উদ্বেগ শহীদ কাপুরের মতে, বর্তমান সময়ে নির্মাতারা সিনেমার গল্প বা শিল্পের চেয়ে ‘বিজনেস মডেল’ তৈরিতে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। তিনি মনে করেন, যখন কোনো শিল্পকে কারখানার পণ্যের মতো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়, তখন সেই শিল্পের আত্মা হারিয়ে যায়। শহীদ বলেন, “সিনেমা কোনো গাণিতিক ফর্মুলা নয় যে আপনি চাইলে জোর করে দর্শকদের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ চালাবেন। শিল্পের নিজস্ব গতি আছে, তাকে তার মতো করে বিকশিত হতে দিতে হবে।”
দর্শকদের কি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? বলিউডের এই তারকা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্মাতাদের উচিত নয় দর্শকদের রুচি বা পছন্দকে আগে থেকে ঠিক করে দেওয়া। তার মতে, দর্শকরা সবসময় নতুন কিছু খোঁজে। কিন্তু যখন ব্যবসায়িক চিন্তায় পড়ে একই ধরণের ‘ফর্মুলা’ সিনেমা বারবার তৈরি করা হয়, তখন তা একঘেয়েমির সৃষ্টি করে। শহীদ কাপুর জোর দিয়ে বলেন, “আপনারা শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করবেন না। ব্যবসা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু সেটা যেন সৃজনশীলতার ওপর প্রাধান্য না পায়।”
বাংলাদেশি প্রেক্ষাপট ও বলিউডের প্রভাব বাংলাদেশেও হিন্দি সিনেমার বিশাল এক ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং সিনেমা হলের মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকরা বলিউডের খবরাখবর নিয়মিত রাখেন। আমাদের দেশেও সিনেমার ব্যবসা বনাম সৃজনশীলতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। শহীদের এই বক্তব্য বাংলাদেশের নবীন নির্মাতাদের জন্যও একটি বড় বার্তা হতে পারে। যখন কোনো নির্মাতা কেবল ‘ভাইরাল’ হওয়ার চিন্তায় বা বক্স অফিস কাঁপানোর নেশায় শিল্পকে বিসর্জন দেন, তখন দীর্ঘমেয়াদে সেই ইন্ডাস্ট্রি রুগ্ন হয়ে পড়ে।
ঝুঁকি নিতেই হবে শহীদ কাপুর মনে করেন, বলিউডের হারানো গৌরব ফেরাতে হলে নির্মাতাদের ঝুঁকি নিতে হবে। নতুন ধরণের গল্প এবং অপ্রচলিত বিষয়ের ওপর আস্থা রাখতে হবে। কেবল বড় বাজেটের ভিএফএক্স বা সুপারস্টারদের ওপর ভর করে সিনেমা হিট করার দিন ফুরিয়ে আসছে। দর্শক এখন গল্পের গভীরতা এবং মেকিংয়ের সততা দেখতে চায়।
উপসংহার: এরপর কী? শহীদ কাপুরের এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন বলিউডের বড় বাজেটের অনেক সিনেমাই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ছে। এখন দেখার বিষয়, তার এই সোজাসাপ্টা কথাগুলো বলিউডের বড় প্রযোজক বা নির্মাতাদের ভাবনায় কোনো পরিবর্তন আনে কি না। যদি সৃজনশীলতা আবার ফ্রন্টসিটে ফিরে আসে, তবেই হিন্দি সিনেমা তার পুরনো জৌলুস ফিরে পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
