নিজস্ব প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪: ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে যখন পুরো দেশ এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই সেই স্বপ্নের প্রধান হাতিয়ার ‘স্মার্টফোন’ সাধারণ মানুষের কাছে এক বিলাসদ্রব্যে পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে দেশের বাজারে মোবাইল ফোনের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন-আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে প্রয়োজনীয় এই প্রযুক্তি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা—সর্বত্রই এখন আলোচনার মূল বিষয় স্মার্টফোনের অগ্নিমূল্য।
আকাশচুম্বী দামের পেছনে কারণ কী? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোনের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ হলো ডলারের উচ্চমূল্য এবং আমদানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক। বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে আমদানিকৃত প্রতিটি ফোনের দাম অন্তত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। যদিও দেশে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড মোবাইল সংযোজন করছে, কিন্তু সেগুলোর যন্ত্রাংশ আমদানিতেও খরচ বাড়ায় সুফল পাচ্ছে না সাধারণ ক্রেতারা।
Read More: স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর ফেব্রুয়ারি: বাজারে আসছে শক্তিশালী ৭টি নতুন ফোন
দিশেহারা তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থী স্মার্টফোন এখন আর কেবল শৌখিনতার বস্তু নয়, বরং অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং এবং যোগাযোগের অপরিহার্য মাধ্যম। ঢাকার বিভিন্ন প্রযুক্তি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, যে ফোনটি আগে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন তার জন্য গুনতে হচ্ছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “পুরনো ফোনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন একটি ফোন কেনা এখন যুদ্ধের সমান। পছন্দের ফোন তো দূরের কথা, সাধারণ মানের একটি ফোন কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
বাজারের বর্তমান চিত্র ও ভোক্তাদের ক্ষোভ রেডিট এবং ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা তাদের ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, ফোনের দাম যে হারে বাড়ছে, সে হারে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না। ফলে অনেকেই পুরনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের দিকে ঝুঁকছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রযুক্তি বাজারে মন্দা দেখা দেওয়ায় খুচরা বিক্রেতারাও দুশ্চিন্তায় আছেন; কারণ দাম বাড়ায় বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।
ডিজিটাল বিভাজন ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, স্মার্টফোনের দাম যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তবে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এটি কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি বা প্রযুক্তিগত শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইন্টারনেটের ব্যবহার ও ডিজিটাল সেবার প্রসারে স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
উপসংহার: কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ? সাধারণ মানুষের দাবি, সরকার যদি স্মার্টফোন আমদানিতে বা স্থানীয় উৎপাদনে কর ছাড় দেয় এবং কিস্তিতে ফোন কেনার সুযোগ আরও সহজ করে, তবেই এই স্থবিরতা কাটানো সম্ভব। অন্যথায়, উচ্চমূল্যের এই বাজারে সাধারণ মানুষের ‘স্মার্টফোন’ কেনার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বাজার স্থিতিশীল করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।
