Home Politics ফেসবুকের ‘হাহা’ রিয়্যাকশন যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: নির্বাচনের আগে বাড়ছে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও...

ফেসবুকের ‘হাহা’ রিয়্যাকশন যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: নির্বাচনের আগে বাড়ছে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ডিজিটাল হয়রানি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ যেমন উত্তপ্ত, ঠিক তেমনি উত্তাপ ছড়িয়েছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। তবে এবারের লড়াই স্রেফ বাকযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং তাদের কণ্ঠ রোধ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফেসবুকের ‘হাহা’ রিয়্যাকশন। আগে যা ছিল নিছক মজার বহিঃপ্রকাশ, এখন তা সঙ্ঘবদ্ধ সাইবার আক্রমণের এক শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণের নতুন কৌশল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারণার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তবে এই জনপ্রিয়তাকে ম্লান করতে এবং জনমতে বিভ্রান্তি ছড়াতে একদল ব্যবহারকারী পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের পোস্টে ‘হাহা’ রিয়্যাকশন দিয়ে থাকে। বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক নেতার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট পোস্টে যখন কয়েক হাজার ব্যঙ্গাত্মক রিয়্যাকশন পড়ে, তখন সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে ওই বার্তার গুরুত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা কমে যায়। এটি এক ধরণের ‘ডিজিটাল মকিং’ বা উপহাস করার প্রক্রিয়া, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়।

কেন বেছে নেওয়া হচ্ছে ‘হাহা’ রিয়্যাকশন? সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি গালাগালি বা আপত্তিকর মন্তব্য করলে ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা মডারেশন টিম দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু ইমোজির ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক কঠিন। ফলে ‘হাহা’ রিয়্যাকশন ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বুলিং করা অনেক সহজ। নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনে সংশয় তৈরি করতে এবং প্রার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে এটি একটি কার্যকরী অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে ‘বট’ বা ভুয়া প্রোফাইল ব্যবহার করে কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার হাজার এমন রিয়্যাকশন নিশ্চিত করা হয়।

গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনমতে প্রভাব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সুস্থ বিতর্কের বদলে যখন এমন উপহাসের সংস্কৃতি জায়গা করে নেয়, তখন সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য যাচাই করতে দ্বিধায় পড়ে যায়। রাজনৈতিক কর্মীদের অভিযোগ, তাদের ইতিবাচক পোস্টগুলোকেও হাস্যরসে পরিণত করে মূল ইস্যু থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে যেমন প্রার্থীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, ঠিক তেমনি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা সামাজিক মাধ্যমের এই প্রবণতা দেখে প্রভাবিত হতে পারেন।

প্রতিরোধ ও সচেতনতা এই ধরণের ডিজিটাল হয়রানি বন্ধে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনি ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ডিজিটাল সেল থেকে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আরও উন্নত মডারেশন টুল এবং রিয়্যাকশন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন যাতে এটি কারো হয়রানির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসবে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ধরণের ‘ইমোজি যুদ্ধ’ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সচেতন ভোটাররা তথ্যের উৎস ও সত্যতা যাচাই করতে পারলে এই ধরণের অপপ্রচার খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারবে না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডিজিটাল মনিটরিং সেল এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। শেষ পর্যন্ত ফেসবুকের এই ছোট একটি ইমোজি বড় কোনো রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দেয় কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version