নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গন। শনিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এইচ জে সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ‘১১ দলীয় ঐক্য’ তাদের নির্বাচনী শক্তিমত্তা প্রদর্শন করেছে। এই ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভা জোটের শীর্ষ নেতারা সমবেত হয়ে একবাক্যে ঘোষণা করেছেন যে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদ বা ফ্যাসিবাদের স্থান হবে না।
মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জান, মাল ও সম্মানের পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাড়ে ১৫ বছরের দুঃশাসন ও জুলুমের অবসান হয়েছে। এখন সময় হয়েছে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও শোষণহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার। শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এই লড়াই কোনো নির্দিষ্ট দলের বিজয়ের জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সভায় ড. শফিকুর রহমান দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের প্রতি কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, অতীতে যারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তারা যেন নিজেদের সংশোধন করে নেন। তিনি বলেন, “আমরা চাঁদাবাজির গোড়া কেটে দিতে চাই। তবে যারা নিজেদের সংশোধন করবে, তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই যেখানে হালাল উপায়ে সবাই সম্মানের সাথে বাঁচতে পারবে।”
নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ যে নতুন স্বাধীনতা পেয়েছে, তাকে নস্যাৎ করতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক পক্ষকে জেতাতে বাইরে থেকে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ যেকোনো মূল্যে এই ষড়যন্ত্র রুখে দেবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক শোষণের অবসান ও ১১ দলীয় জোট বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক তার বক্তব্যে ১৯৭২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়কে ‘শোষণের যুগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন শাসনের নামে জনগণকে শোষণ করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে সত্যিকারের গণপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের। কুমিল্লা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, এই জোট কেবল রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
নির্বাচনী আবহে মহাজাগরণ চৌদ্দগ্রামের এই জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। জোটের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই বিশাল সমাবেশ প্রমাণ করে যে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে জনগণের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের পর এই প্রথমবার একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে দেশ।
