নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল | a2news24 টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবক (আনুমানিক বয়স ২৮-৩০) আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার হাতিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা অভিমুখী ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের নিচে ওই যুবক ঝাঁপ দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু রেললাইনের কালিহাতী অংশের হাতিয়া এলাকায় এক যুবককে দীর্ঘক্ষণ রেললাইনের আশেপাশে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। সকালের দিকে সিরাজগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি যখন হাতিয়া এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে যুবকটি হঠাৎ লাইনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত স্থানীয়রা হতভম্ব হয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
রেল পুলিশের তৎপরতা ও লাশ উদ্ধার ঘটনার পর টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছিন্নভিন্ন মরদেহটি উদ্ধার করেন। রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত আত্মহত্যার ঘটনা। তবে কী কারণে যুবকটি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, “আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।”
পরিচয় শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার রেলওয়ে পুলিশ আরও জানায়, অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় শনাক্তের জন্য আঙুলের ছাপ (ফিংগারপ্রিন্ট) সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিবিআই (Police Bureau of Investigation) এর সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেস ব্যবহার করে তার নাম-ঠিকানা জানার চেষ্টা করা হবে। স্থানীয় কোনো পরিবার থেকে নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
রেললাইনে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা: উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা সাম্প্রতিক সময়ে রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। পারিবারিক কলহ, বেকারত্ব কিংবা মানসিক অবসাদের কারণে অনেক যুবক এমন মর্মান্তিক পথ বেছে নিচ্ছেন। টাঙ্গাইলের এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আমাদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেললাইনের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
