নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) কর্মজীবী নারীদের নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটিতে কর্মজীবী নারীদের সম্মানহানি করা হয়েছে—এমন অভিযোগে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়ার পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হলেও বিতর্ক থামছে না।
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে তিনি কর্মজীবী নারীদের অবস্থানকে একটি আপত্তিকর উপমার সাথে তুলনা করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে মানবাধিকার কর্মী ও নারী অধিকার সংস্থাসমূহ তীব্র নিন্দা জানাতে শুরু করে।
সমালোচনার মুখে পোস্ট মুছে ফেলা পোস্টটি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধলে এবং বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে জামায়াত আমীর তার আইডি থেকে ওই বিতর্কিত পোস্টটি ডিলিট বা মুছে ফেলেন। তবে ততক্ষণে পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই বলছেন, দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে নারীদের অসামান্য অবদানের এই যুগে একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।
নারীদের অবস্থান ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে শুরু করে প্রশাসন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা এখন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। দেশের জিডিপিতে নারীদের অংশগ্রহণ যেখানে ঈর্ষণীয়, সেখানে তাদের সামাজিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য নারীর কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাষা আশা করে সাধারণ মানুষ।

দলীয় প্রতিক্রিয়া ও জনমত পোস্টটি মুছে ফেলার বিষয়ে বা এই বিতর্কের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে দলটির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে এই ইস্যু নিয়ে অনলাইন মাধ্যমে যুক্তিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, ডিজিটাল যুগে কোনো মন্তব্য করে তা মুছে ফেললেই দায় শেষ হয়ে যায় না, বরং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য স্বচ্ছতা জরুরি।
ভবিষ্যৎ প্রভাব বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতের ভাবমূর্তি এবং নারী ভোটব্যাংকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কতটা সতর্কতা অবলম্বন করবে, তা এখন দেখার বিষয়। নারীর মর্যাদা ও কর্মসংস্থানের অধিকার রক্ষায় দেশের সচেতন সমাজকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।