নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর নৃশংস ঘটনার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার পর সারা দেশে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের এই রায়কে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারগুলো ‘ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ১৬ জন আসামির মধ্যে ৮ জনই এখনো পলাতক থাকায় দণ্ড কার্যকর করা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
শহীদ পরিবারে কান্নার সাথে স্বস্তির নিঃশ্বাস ৫ আগস্টের সেই নারকীয় ঘটনায় শহীদ হওয়া সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর ও তানজিল মাহমুদ সুজয়সহ সাতজন শহীদের পরিবার আজ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। রায় শোনার পর তারা কান্নায় ভেঙে পড়লেও বিচারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শহীদ সজলের এক স্বজন বলেন, “লাশ পুড়িয়ে দিয়ে তারা আমাদের শেষ চিহ্নটুকু মুছে দিতে চেয়েছিল। আজ আদালতের রায়ে প্রমাণ হলো অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, পার পাবে না।” তবে তাদের দাবি, সাবেক এমপি সাইফুল এবং ওসিসহ যারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর নজিরবিহীন রায়: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ
পলাতক আসামিদের ধরতে বিশেষ তৎপরতা এই মামলায় মোট ১৬ জন আসামির মধ্যে ৮ জনই এখনো ধরা পড়েনি, যাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম এবং যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া অন্যতম। সরকারি সূত্র মতে, পলাতক আসামিরা দেশের বাইরে পালিয়ে থাকতে পারেন এমন আশঙ্কায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক ওসি এফ এম সায়েদ এবং এসআই আব্দুল মালেকসহ অন্যদের ধরতে দেশের সব স্থল ও বিমান বন্দরে কঠোর নজরদারি জারি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে রেড নোটিশের পরিকল্পনা যেহেতু পলাতক আসামিদের মধ্যে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন, তাই তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারির প্রক্রিয়া শুরু করার কথা ভাবছে সরকার। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায় ঘোষণার পর এখন দণ্ড কার্যকরের জন্য পলাতকদের ফিরিয়ে আনাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হকের জবানবন্দিতে ঘটনার যে বীভৎসতা উঠে এসেছে, তা আন্তর্জাতিক জনমতকে এই আসামিদের ফেরাতে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
উপসংহার: অপরাধীদের জন্য নেই কোনো ক্ষমা আশুলিয়ার এই রায় কেবল একটি অঞ্চলের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের একটি বড় অর্জন। সাতজন শহীদ—সজল, সাবুর, সুজয়, বায়েজিদ, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও শাহাবুল ইসলামের রক্ত মাখা স্মৃতি আজ বিচারিক স্বীকৃতি পেল। তবে ন্যায়বিচার তখনই পূর্ণতা পাবে যখন দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জন আসামির প্রত্যেকেই আইনের আওতায় আসবে। পলাতকদের গ্রেপ্তারে সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে শহীদদের পরিবার ও সাধারণ জনতা।
