Home Politics সবাইকে নিয়েই হবে আগামীর বাংলাদেশ”: ভারতীয় গণমাধ্যমে জামায়াত আমীর এর বড় বার্তা

সবাইকে নিয়েই হবে আগামীর বাংলাদেশ”: ভারতীয় গণমাধ্যমে জামায়াত আমীর এর বড় বার্তা

0
সবাইকে নিয়েই হবে আগামীর বাংলাদেশ”: ভারতীয় গণমাধ্যমে জামায়াত আমীর এর বড় বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ দুই দশক পর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই মাহেন্দ্রক্ষণে ভারতীয় প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দলের আমীর ড. শফিকুর রহমান তার রাজনৈতিক দর্শন এবং আগামী দিনের বাংলাদেশের চিত্র নিয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে একটি বহুবাদী সমাজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

অতীতের ভুল ও ক্ষমা প্রার্থনা সাক্ষাৎকারে ড. শফিকুর রহমান এক নজিরবিহীন ও মানবিক অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “১৯৪৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত যদি আমাদের কোনো কর্মীর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি সামান্যতম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে আমি আমীর হিসেবে বিনম্রভাবে তাদের কাছে ক্ষমা চাইছি।” তার মতে, এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয় বরং নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং জাতীয় ঐক্যের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের মানুষের আস্থা অর্জনে এই স্বচ্ছতা ও বিনয় অত্যন্ত জরুরি।

আরো পড়ুনঃ ৪১ দফা ‘জনতার ইশতেহার’: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের মহাপরিকল্পনা

নতুন প্রজন্মের জন্য সুশৃঙ্খল বিকল্প দুর্নীতি এবং অপশাসনে বীতশ্রদ্ধ তরুণ প্রজন্মের কাছে জামায়াত এক নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছে। ড. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, “জামায়াত একটি ক্যাডার-ভিত্তিক আদর্শিক দল হলেও আমাদের মূল লক্ষ্য হলো জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। আজকের তরুণরা বাগাড়ম্বর নয় বরং কাজের সততা দেখতে চায়।” সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের জয়জয়কারকে তিনি তরুণদের এই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

সংখ্যালঘু অধিকার ও নির্বাচনী প্রস্তুতি জামায়াতের বিরুদ্ধে থাকা ধর্মীয় গোঁড়ামির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, তাদের দল এখন অনেক বেশি প্রগতিশীল এবং মধ্যপন্থী। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এবারের নির্বাচনে জামায়াত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থীকেও মনোনয়ন দিয়েছে, যা দলটির অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির এক বড় উদাহরণ। এছাড়া ৩শ আসনেই প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং তারা এককভাবে বা নীতিগত মিল আছে এমন দলের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত।

জাতীয় ঐক্য ও জুলাইয়ের চেতনা ড. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা এই চেতনাকে ধারণ করে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করতে চাই যেখানে নারী, সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক শেখ হাসিনার গণ্ডি পেরিয়ে জনগণের পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত এবং তা পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? ড. শফিকুর রহমানের এই সাক্ষাৎকারটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জামায়াতের প্রতি থাকা ধারণা পরিবর্তনের একটি বড় চেষ্টা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জামায়াতের এই ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ ও ‘উদারপন্থী’ ইমেজ সাধারণ ভোটারদের ব্যালটে কতটা প্রতিফলিত হয়, তা ২০২৬ সালের নির্বাচনেই প্রমাণিত হবে। সংস্কারের এই আহ্বান এবং ক্ষমার এই সংস্কৃতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version