Home Politics ত্রয়োদশ নির্বাচন এর বড় প্রশ্ন— জনগণ কি আদৌ ভোটকেন্দ্রে যাবে?

ত্রয়োদশ নির্বাচন এর বড় প্রশ্ন— জনগণ কি আদৌ ভোটকেন্দ্রে যাবে?

1

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সূর্যোদয় হতে যাচ্ছে নাকি মেঘের আড়ালে আরও একটি সংঘাতময় অধ্যায় শুরু হচ্ছে—এই প্রশ্ন এখন প্রতিটি চায়ের কাপে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যত কাছে আসছে, ততই এক অদ্ভূত টানাপোড়েন শুরু হয়েছে নাগরিকদের মাঝে। একদিকে দীর্ঘদিনের হারানো ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে রাজপথে প্রতিদিনের সংঘাত ও রক্তের দাগ। এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে দেশজুড়ে এখন একটাই সংশয়—জনগণ কি জীবন বাজি রেখে আদৌ ভোটকেন্দ্রে যাবে?

সহিংসতার লাল খেরোখাতা: ভোটারদের জন্য কতটুকু নিরাপদ? বিগত ৫৩ দিনের পরিসংখ্যান কোনো সাধারণ নাগরিকের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ২৭৪টি বড় ধরণের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজপথে ঝরেছে ৫টি তাজাপ্রাণ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে ১৫বার। এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি ভোটারদের মনে তৈরি হওয়া সেই আতঙ্কের প্রতিফলন, যা তাদের ভোটের দিন ঘর থেকে বের হতে বাধা দিতে পারে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, জানুয়ারিতে সহিংসতার হার ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কি কেবল একটি ‘সিল’ মারার জন্য প্রাণ ঝুঁকিতে ফেলবে?

আরো পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এর সমর্থকদের বড় অংশই এখন বিএনপি ৪৮% ও জামায়াতপন্থী ৩০%

সংস্কার বনাম সক্ষমতা: মাঠ পর্যায়ে কতটা কার্যকর? নির্বাচনের মোক্ষম সময়ে র‍্যাবের নাম বদলে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ) করা এবং বাহিনীর খোলনলচে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সরকার বাহবা পেলেও ভোটাররা এখনো ধোঁয়াশায়। সাদা পোশাকে হোক কিংবা কালো পোশাক—পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী কি পারবে প্রার্থীর সমর্থকদের গুণ্ডামি থামিয়ে একজন সাধারণ ভোটারকে নিরাপদে ব্যালট বক্স পর্যন্ত পৌঁছে দিতে? মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কেবল বাহিনীর নাম বদলে জনগণের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়; দরকার মাঠ পর্যায়ে নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা। ভোটারদের মধ্যে আস্থা নেই বলেই গত কয়েক দিন ধরে জনমনে এই গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলছে— ‘ভোট তো হবে, কিন্তু আমরা কি পৌঁছাতে পারব?’

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সংজ্ঞা কি কেবল প্রার্থীর সংখ্যায়? উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা দেশগুলো এবার একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য মরিয়া। কিন্তু এই ‘অংশগ্রহণ’ কি কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রতিফলিত হবে? পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ৫৪-৫৫ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির লক্ষ্যমাত্রা কি কেবলই এক অলীক স্বপ্ন? যদি বুথের বাইরে লাঠিসোটা ও ককটেলের রাজত্ব থাকে, তবে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো কেন্দ্রের ত্রিসীমানায় যাবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উপসংহার: ব্যালটের জয় নাকি আতঙ্কের পরাজয়? নির্বাচনের মাঠ এখন এক বিশাল প্রশ্নের সম্মুখীন। রাজনৈতিক দলগুলোর উস্কানি এবং পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার যদি না কমে, তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আরও একটি ‘খালি কেন্দ্রের’ ইতিহাস গড়তে পারে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ভোটারদের হাতে কালি লাগানো নয়, বরং তাদের মনে এই বিশ্বাস ফেরানো যে— ‘ভোটকেন্দ্রে গেলে আপনি নিরাপদে ফিরে আসবেন’। শেষ পর্যন্ত কি ব্যালটের জয় হবে নাকি আতঙ্কের রাজত্বে সাধারণ ভোটাররা নীরব থেকে যাবেন, তা জানতে আমাদের কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version