নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: এককভাবে জয়ের ব্যাপারে অনড় তারেক রহমান বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনের পর সব দলের অংশগ্রহণে একটি ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নেতা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার দল মনে করছে, আগামী নির্বাচনে তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হতে যাচ্ছে, ফলে ক্ষমতার অংশীদারত্বের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।
পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি দীর্ঘদিনের। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, তার দল এককভাবে দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। আন্তর্জাতিক মহল এবং দেশের ভেতরে কোনো কোনো পক্ষ স্থিতিশীলতার স্বার্থে সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলেও বিএনপি এই মুহূর্তে সেই পথে হাঁটতে রাজি নয়।
Read More: ত্রয়োদশ নির্বাচন এর বড় প্রশ্ন— জনগণ কি আদৌ ভোটকেন্দ্রে যাবে?
কেন এই প্রত্যাখ্যান? তারেক রহমানের মতে, বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল। এখন সময় এসেছে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের। তিনি মনে করেন, ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ বা কোয়ালিশন সরকার অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ধীরগতির হয় এবং এতে জবাবদিহিতার অভাব দেখা দিতে পারে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বর্তমান জনমত তাদের পক্ষে রয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা এককভাবেই সরকার গঠন করতে সক্ষম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে এটি দলের তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করছে, অন্যদিকে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে যে কোনো ধরণের সমঝোতার পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। তবে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই সিদ্ধান্তে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। দেশের সুশীল সমাজ মনে করছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ চায় এমন একটি সরকার, যারা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংস্কারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে যে, ক্ষমতায় গেলে তারা সংবিধানের আমূল সংস্কার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে বিএনপি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে যে তারা ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায়। এখন দেখার বিষয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এই অবস্থানকে কীভাবে গ্রহণ করে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে কার হাতে দেশের চাবিকাঠি তুলে দেয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

[…] […]