নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গোপালগঞ্জ মানেই ছিল আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য। কিন্তু ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখছে জেলার ভোটাররা। কয়েক দশক ধরে যে ব্যালট পেপারে ‘নৌকা’ প্রতীক ছিল অবধারিত, এবার সেখানে সেই পরিচিত প্রতীকটি নেই। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ জেলা গোপালগঞ্জের বাসিন্দারা এবার এক ‘অচেনা’ নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন।
রাজনৈতিক পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে। তবে আইনি জটিলতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না। ফলে গোপালগঞ্জের নির্বাচনী মাঠ এখন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দখলে।
Read More: ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ প্রস্তাব নাকচ: এককভাবে জয়ের ব্যাপারে অনড় তারেক রহমান
গোপালগঞ্জের পরিবর্তিত চিত্র রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জের রাস্তাঘাটে এবার নৌকা প্রতীকের বদলে দেখা যাচ্ছে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা এবং নানা স্বতন্ত্র প্রতীকের পোস্টার। ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। প্রবীণ অনেক ভোটার যারা সারাজীবন নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই ব্যালট পেপারটি একেবারেই অপরিচিত। অন্যদিকে, তরুণ ভোটাররা মনে করছেন এটি গণতন্ত্রের একটি নতুন পরীক্ষা যেখানে কেবল প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা গুরুত্ব পাবে।
নিরাপত্তা ও চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গোপালগঞ্জের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো ধরণের সহিংসতা ছাড়াই একটি সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ করাই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেন।
ভোটারদের ভাবনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার একজন সাধারণ ভোটার রয়টার্সকে জানান, “সারাজীবন আমরা এক দলের আধিপত্য দেখে বড় হয়েছি। এবার আমাদের কাছে অপশন অনেক, কিন্তু আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারছি না এই নতুন পরিবেশে আমাদের ভূমিকা কী হবে।” তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এখানে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে একটি তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? গোপালগঞ্জের এই পরিবর্তন কেবল একটি জেলার পরিবর্তন নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনীতিরই প্রতিফলন। নৌকাশূন্য এই নির্বাচনে গোপালগঞ্জবাসী কি নতুন কোনো নেতৃত্ব বেছে নেবে, নাকি ভোটের উপস্থিতিতে এর প্রভাব পড়বে, তা জানতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কোন প্রতীকের জয় হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

[…] গোপালগঞ্জ এ কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভঙ্গ: নৌ… […]