ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: ১৪ বছর বয়স—অধিকাংশ কিশোরের কাছে যখন পড়াশোনা আর বন্ধুদের সাথে আড্ডাই জীবনের মূল কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্র বদলে দিলেন বৈভব সূর্যবংশী। তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ভর করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল ভারত। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ১৭৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই ভারতীয় কিশোর।
ফাইনালে সূর্যবংশীর মহাকাব্যিক ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত এই মেগা ফাইনালে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে রীতিমতো ছেলেখেলায় পরিণত করেন বৈভব। দলের প্রয়োজনে যখন সবাই তাকিয়ে ছিল সিনিয়রদের দিকে, তখন ব্যাট হাতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন দলের কনিষ্ঠতম সদস্য। তার ১৭৫ রানের ইনিংসটি কেবল রান সংখ্যায় নয়, বরং ব্যাটিংশৈলী, আত্মবিশ্বাস এবং চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ম্যাচ বের করে আনার ক্ষমতার কারণে কিংবদন্তিদেরও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তার এই দানবীয় ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই ভারত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাহাড়সম স্কোর গড়ে এবং শেষ পর্যন্ত দাপটের সাথে ম্যাচ জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
Read More: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ: বয়কটের হুঙ্কার নাকি সমঝোতা? দ্বিধাবিভক্ত সমর্থকরা
রেকর্ডবুক ও নতুন ইতিহাস ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদদের মতে, এত কম বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনো বড় দলের বিপক্ষে এমন ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলার নজির নেই বললেই চলে। তার ব্যাটিং দেখে মনেই হচ্ছিল না যে তিনি বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের (এমনকি প্রতিপক্ষের সবার) চেয়েও ছোট। এই ইনিংসটি তাকে রাতারাতি বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন সেনসেশনে পরিণত করেছে।
বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মাহাত্ম্য অনেক। ২০২০ সালে আকবর আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশও এই শিরোপা জেতার স্বাদ পেয়েছিল। ভারতের এই জয় এবং বিশেষ করে ১৪ বছর বয়সী বৈভবের এই উত্থান বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কীভাবে ভয়ডরহীন মানসিকতা নিয়ে বড় মঞ্চে পারফর্ম করতে হয়, বৈভবের এই ইনিংস তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন ভারতের বিশ্বকাপ জয় এবং বৈভবের বন্দনায় মুখর। সাবেক ক্রিকেটাররা বলছেন, বৈভব কেবল রান করছেন না, তিনি ১৪ বছর বয়সেই ক্রিকেটের ব্যাকরণকে নতুন করে লিখছেন। নেটিজেনরা তাকে তুলনা করছেন শচীন টেন্ডুলকার বা ব্রায়ান লারার শুরুর দিকের দিনগুলোর সাথে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই অবিশ্বাস্য প্রতিভা ধরে রাখা এবং সঠিক যত্ন নেওয়াই হবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
উপসংহার: আগামীর তারকা বৈভব সূর্যবংশীর এই ১৭৫ রানের ইনিংস এবং ভারতের বিশ্বকাপ জয়—এটি কেবল একটি শিরোপা নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য বজায় রাখার এক নতুন বার্তা। ১৪ বছরেই যিনি বিশ্বজয় করলেন, বড়দের ক্রিকেটে তার যাত্রাটা কেমন হবে, তা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।
