বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারফরম্যান্সের ধার যেন বেড়েই চলেছে হ্যারি কেইনের। টটেনহ্যাম হটস্পারে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে এক মৌসুমে ৪১ গোল করেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৩ সালে ৩০ বছর বয়সে জার্মান পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর থেকে গোলক্ষুধা যেন দানবীয় রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্ন ও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে অবিশ্বাস্য ৭৩ গোল করেছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। ফুটবলবিষয়ক শীর্ষ প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন ব্যালন ডি’অরের প্রধান দাবিদার হিসেবে আলোচিত হচ্ছে তাঁর নাম।
মেসির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের ইতিহাস
২০১১-১২ মৌসুমে বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির ৬৯ ম্যাচে ৮২ গোলের অতিমানবীয় রেকর্ডের পর বিশ্ব ফুটবলে এক মৌসুমে কেইনের এই ৭৩ গোলই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়া বায়ার্নের জার্সিতে গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জিতেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তোলার পথে করেছেন ৬ গোল। স্বাভাবিকভাবেই এবার ব্যালন ডি’অর নিয়ে ইংলিশ ফুটবল ভক্তদের মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছে সেই বিখ্যাত স্লোগান—‘ইটস কামিং হোম’।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের আত্মপ্রচার ও কেইনের জবাব
আগামী ২৬ অক্টোবর জমকালো আয়োজনে ব্যালন ডি’অর প্রদান করা হবে। এই মঞ্চে কেইনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিয়ান এমবাপ্পে ও স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। দুজনই সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে নিজেদের ব্যালন ডি’অর জয়ের যোগ্য দাবিদার বলে দাবি করেছেন।
এমবাপ্পে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখছেন, অন্যদিকে ইয়ামাল বিশ্বকাপ ও লা লিগা জয়ের ট্রফি খতিয়ান তুলে ধরে নিজের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তবে এই প্রচারণায় গা ভাসাতে নারাজ কেইন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কেইন বলেন:
“নিজেকে নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে আমার ভালো লাগে না। শুধু এটুকু বলব, গত মৌসুমটি অসাধারণ ছিল—আমার জীবনের সেরা মৌসুম। তবে ব্যালন ডি’অর তো আর আমার হাতে নেই, এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে ভোটদাতাদের ওপর। আমি মনে করি, আমার ৭৩ গোলই সব বলে দিচ্ছে।”
লন্ডনে বসছে আসর, কেইনের অনুভূতি
Read More: এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি: আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের ঘোষণা
এবারের ব্যালন ডি’অর আয়োজন কেইনের জন্য আরও একটি কারণে বিশেষ। ইতিহাসের প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের প্যারিস ছেড়ে ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে বসছে ব্যালন ডি’অরের মূল অনুষ্ঠান। নিজের ঘরের মাঠে এই ট্রফি জয়ের হাতছানি নিয়ে কেইন বলেন, “লন্ডন আমার নিজের শহর হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি স্পেশাল হয়ে উঠেছে। সেখানে ট্রফি প্রদানের অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছে, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।”
গোলের পর গোল উদযাপন করতে ক্লান্তি আসে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে হাসিমুখে এই জাত স্ট্রাইকার জানান, গোল করার অনুভূতিটাই ফুটবলে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এবং স্বস্তির। বুটজোড়া তুলে রাখার পর এই গোল করার অনুভূতিটাই তিনি সবচেয়ে বেশি মিস করবেন।
শেষ কথা
পরিসংখ্যান, ট্রফি ও গোলের বিবেচনায় হ্যারি কেইন নিঃসন্দেহে এবারের ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও যোগ্য দাবিদারদের একজন। এমবাপ্পে বা ইয়ামালের ট্রফি ক্যাবিনেট নাকি কেইনের গোলের অবিশ্বাস্য পাহাড়—ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো ফুটবল দুনিয়া।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.
