যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ও মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের সেরা দুই দলের বার্ষিক মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ‘কাম্পেওনেস কাপ’-এর শিরোপা ঘরে তুলেছে ইন্টার মায়ামি। ফাইনালে মেক্সিকোর অন্যতম শীর্ষ ক্লাব ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলের পরিষ্কার ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্লোরিডার দলটি। পুরো ম্যাচজুড়ে একক আধিপত্য বজায় রেখে ক্লাবের হয়ে নিজের ১০০তম গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ফক্স স্পোর্টস এই ম্যাচের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
হেডে শততম গোলের রূপকথা
ম্যাচের শুরু থেকেই ক্রুজ আজুলের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে আসে সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। বাঁ প্রান্ত থেকে সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের নিখুঁত ও মাপা ক্রসে চমৎকারভাবে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান মেসি।
এই গোলের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামির ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শততম গোলের অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি। অদ্ভুত এক সমাপতন হলো, ২০২৩ সালের ২১ জুলাই এই ক্রুজ আজুলের বিপক্ষেই শেষ মুহূর্তের ফ্রি-কিকে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে নিজের অভিষেক গোল করেছিলেন মেসি। ঠিক তিন বছর পর একই ক্লাবের বিপক্ষে ফাইনালে এলো তাঁর শততম গোল।
Read More: ইন্টার মায়ামির ইতিহাসে প্রথম: ক্লাবের জার্সিতে মেসির ১০০তম গোলের ইতিহাস
মেসির কর্নারে কাসেমিরোর জয়সূচক গোল
এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণের ধার কমায়নি মায়ামি। ক্রুজ আজুল সমতায় ফেরার কিছু চেষ্টা চালালেও মায়ামির সুসংগঠিত ডিফেন্স ভেঙে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। খেলার ৮১তম মিনিটে আবারও মেসির জাদুকরী ছোঁয়া। ডান প্রান্ত থেকে মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার কিকে বুলেট গতির এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। ২-০ গোলের এই লিড নিশ্চিত করে দেয় মায়ামির ট্রফি জয়।
মায়ামির হয়ে মেসির পঞ্চম শিরোপা
২০২৩ সালের মাঝামাঝি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবের চেহারা আমূল বদলে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। মাত্র তিন মৌসুমের ব্যবধানে ফ্লোরিডার এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এনে দিয়েছেন পাঁচটি বড় ট্রফি:
-
লিগস কাপ (২০২৩)
-
সাপোর্টার্স শিল্ড (২০২৪)
-
এমএলএস কাপ (২০২৫)
-
কনকাকাফ জোন ট্রফি
-
কাম্পেওনেস কাপ (২০২৬)
মাত্র ১১৫ ম্যাচে ১০০ গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ৬০টিরও বেশি গোল করিয়েছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সে এসেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গোল করা এবং দলকে শিরোপা জেতানোয় তিনি যে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী, ফাইনালের এই পারফরম্যান্স তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।
শেষ কথা
ম্যাচ শেষে ট্রফি হাতে নিয়ে চিরচেনা হাসিমুখে সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসে মাতেন দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ব্যক্তিগত মাইলফলক ও ক্লাবের জন্য আরও একটি আন্তর্জাতিক ট্রফি—সব মিলিয়ে মায়ামির ফুটবলে এক রাজকীয় রাত উপহার দিলেন এলএমটেন।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.
