নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ভাগ্যনির্ধারণী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ১৮ মাস পর এই ভোটের মাধ্যমে দেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় পরীক্ষাও বটে।
বিশাল ভোটার সংখ্যার পরিসংখ্যান এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে বড় একটি অংশ তরুণ প্রজন্ম। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ভোটার (মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশ) ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ তরুণ ভোটার এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন। ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,৩৬৬ জন মানুষের বসবাস, যা ভারতের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। এই বিশাল জনপদ এখন তাকিয়ে আছে নতুন এক নেতৃত্বের দিকে।
Read More: দেশ পুনর্গঠনে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান: ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির বিশাল জনসভা
নির্বাচনী ময়দানে যারা আছেন ২০২৬-এর এই নির্বাচনী লড়াইয়ে ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ১,৯৮১ জন, যার মধ্যে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা এই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দিতে পারছে না। ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বড় দুটি শক্তির মধ্যে:
-
বিএনপি: তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ বিরতির পর ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।
-
জামায়াতে ইসলামী: প্রায় এক দশকের নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন শক্তিতে আবির্ভূত হয়েছে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এই দল।
-
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ২০২৪-এর বিপ্লবের ছাত্র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন দল তরুণ ভোটারদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
অর্থনীতি ও সংস্কারের চ্যালেঞ্জ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বেড়েছে, তবে সম্প্রতি প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়ে ৩.৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে আগামী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তিতে ১৯ শতাংশ শুল্ক হারের সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটারদের আস্থা ফেরানোই প্রশাসনের বড় লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল আগামী ৫ বছরের সরকার নির্ধারণ করবে না, বরং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ বা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদের মতো প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কারগুলো আলোর মুখ দেখবে কি না, তাও স্পষ্ট হবে।
উপসংহার: সামনে যা ঘটছে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের পর দ্রুতই ফলাফল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্যে দেশ কতটা স্থিতিশীল থাকে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, এই ভোটের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে একটি শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’।
