Home Politics আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাপট: ১৯ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঐতিহাসিক চুক্তি সই

আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাপট: ১৯ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঐতিহাসিক চুক্তি সই

0
আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাপট: ১৯ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঐতিহাসিক চুক্তি সই

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের জন্য সুসংবাদ বয়ে আনল (আমেরিকা) ওয়াশিংটন। দীর্ঘ ৯ মাসের স্নায়ুক্ষয়ী আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছে। নতুন এই চুক্তির ফলে এখন থেকে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কের হার ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়াবে। একই সাথে আমেরিকান তুলা বা কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পোশাকে মিলবে ‘জিরো ট্যারিফ’ বা শুল্কমুক্ত সুবিধা।

ঐতিহাসিক চুক্তির প্রেক্ষাপট সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে এই চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জ্যামিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে সই করেন। উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছিলেন। পরবর্তীতে তা কয়েক দফায় কমিয়ে বর্তমানে ১৯ শতাংশে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

Read More: ২০২৬ সাধারণ নির্বাচন: নতুন বাংলাদেশের পথে ১২ কোটি ভোটারের ভাগ্যনির্ধারণী পদযাত্রা

পোশাক খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা চুক্তির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো—আমেরিকায় উৎপাদিত তুলা বা কৃত্রিম তন্তু (Man-made fiber) ব্যবহার করে বাংলাদেশে যে পোশাক তৈরি হবে, তা আমেরিকার বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, “এই মেকানিজম আমাদের রপ্তানিকারকদের জন্য বিশ্ববাজারে নতুন করে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা তৈরি করবে”।

বিনিময়ে যা দিচ্ছে বাংলাদেশ এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশও মার্কিন পণ্যের জন্য নিজেদের বাজার আরও উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকান রাসায়নিক দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, মোটর যান এবং কৃষি পণ্য যেমন—সয়াবিন, গরুর মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য বিশেষ বাজার সুবিধা দেবে ঢাকা। এছাড়া বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি নতুন বোয়িং বিমান কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করবে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও বাংলাদেশি পাঠকদের গুরুত্ব বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ছাড় পাওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান আরও সুরক্ষিত হবে। বিশেষ করে ভারতের সাথে সম্প্রতি আমেরিকার ১৮ শতাংশ শুল্কের যে চুক্তি হয়েছে, তার সাথে পাল্লা দিতে বাংলাদেশের ১৯ শতাংশ শুল্কের এই হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই বড় ধরণের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চুক্তি কার্যকরের ফলে আগামী মাসগুলো থেকেই বাংলাদেশি পোশাক কারখানায় মার্কিন কার্যাদেশের (অর্ডার) হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Follow Us ON Facebook: A2NEWS24

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version