০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। এই বিশাল জয়ের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে দলটি।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নিরঙ্কুশ বিজয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ও দলটির প্রার্থীরা সারা দেশে অভূতপূর্ব জোয়ার সৃষ্টি করেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব নেতাই বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
Read More: আওয়ামী লীগ হীন ঐতিহাসিক নির্বাচন: তারেক রহমান’র ‘ক্লিন পলিটিক্স’ ও নতুন পথের অঙ্গীকার
বিশ্লেষকদের মতে, ১৫১টি আসনের ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে ২১২টি আসনে জয় পাওয়া বিএনপির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক অর্জন। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভোটাররা দেশের স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য বিএনপির ওপরই আস্থা রেখেছেন।
অন্যান্য দল ও জোটের অবস্থান বিএনপির এই ঝড়ের মুখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রায় ৭০টি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনকে ‘দ্বিমুখী লড়াই’ হিসেবে দেখা হলেও ফলাফলে বিএনপির একক আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
৭২ শতাংশের রায়ে পাস হলো গণভোট সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া ‘জুলাই সনদ’ বা জাতীয় চার্টার সংক্রান্ত গণভোটেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন মিলেছে। ৭২ শতাংশ ভোটার গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এর ফলে দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও ভবিষ্যতে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আইনি পথ প্রশস্ত হলো।
বিজয় উৎসব না করার ঘোষণা বিপুল এই জয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের আনন্দ মিছিল বা বিজয় উৎসব না করার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা এবং দেশের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আজ শুক্রবার বাদ জুমা সারা দেশে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
সামনে কী অপেক্ষা করছে? নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। ২১২ আসনের এই বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি কীভাবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
