বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত এই নেত্রী সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ‘লজ্জাজনক অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন।
নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ ও ‘কলঙ্কজনক’ আখ্যা শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, গণতন্ত্রের নামে বাংলাদেশে এখন যা ঘটছে তা আসলে প্রহসন। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচন বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো দেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক ‘লজ্জাজনক অধ্যায়’ বলে বর্ণনা করেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দাবি, একটি অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে।
ড. ইউনূসের পদত্যাগ দাবি বিবৃতিতে শেখ হাসিনা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায়ভার গ্রহণ করে ড. ইউনূসকে অনতিবিলম্বে তাঁর পদ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, একটি অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
Read More: গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয়: ২১২ আসনে বিএনপি’র ল্যান্ডস্লাইড বিজয়, রেকর্ড গড়ে পাস
দেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং প্রশাসনের অস্থিরতা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, দেশের অর্থনীতি ও বিচারব্যবস্থা এখন চরম সংকটের মুখে।
বিশ্লেষকদের অভিমত ও আগামীর রাজনীতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার এই কঠোর অবস্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। একদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে হাঁটার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজপথের রাজনীতিকে পুনরায় উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। তবে সাধারণ মানুষ চায় একটি টেকসই সমাধান, যেখানে স্থিতিশীলতা এবং প্রকৃত গণতন্ত্র নিশ্চিত হবে।
উপসংহার শেখ হাসিনার এই দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই বিবৃতির পর আওয়ামী লীগের পরবর্তী কৌশল কী হবে? দেশের ভেতরে থাকা দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

[…] […]
[…] […]
[…] […]