বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে দীর্ঘ সময় পর এক বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান ‘ফ্যাক্টর’ বা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছেন। প্রবাসে থেকেও সুদূর লন্ডন থেকে যেভাবে তিনি দলের তৃণমূল পর্যায়কে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন এবং আন্দোলন পরিচালনা করেছেন, তা আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ নজর কেড়েছে।
সুদূর লন্ডন থেকে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মুখে বিএনপি যখন অস্তিত্বের সংকটে ছিল, তখন তারেক রহমান প্রযুক্তির সহায়তায় দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই ‘ডিজিটাল লিডারশিপ’ বিএনপিকে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে। দলের ভেতরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুদৃঢ়।
Read More: নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা’র বিস্ফোরক মন্তব্য: ড. ইউনূসের পদত্যাগ দাবি ও কড়া সমালোচনা
রাজনীতির নতুন ভাষা ও কৌশল তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের কথা না বলে, দেশের রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির ওপর জোর দিচ্ছেন। তাঁর ঘোষিত ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাব দেশের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষিত সমাজের কাছে বিএনপিকে নতুনভাবে পরিচিত করেছে। প্রতিশোধের রাজনীতির বদলে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সহনশীল রাজনীতির ডাক দিয়ে তিনি নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভাবমূর্তি এক সময় তারেক রহমানকে নিয়ে নানামুখী সমালোচনা ও বিতর্ক থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন প্রধান মুখ হিসেবে বর্ণনা করছেন। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সংকটের সময়েও দলকে ধরে রাখার সক্ষমতাকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধারে তাঁর দৃঢ় অবস্থান বিদেশি কূটনীতিকদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।
আগামীর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা কী হবে? যদিও তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু আইনি জটিলতা রয়ে গেছে, তবে দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, জনগণের ভালোবাসা এবং সময়ের প্রয়োজনে তিনি রাজসিকভাবেই দেশে ফিরবেন। আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করাই এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
উপসংহার বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র যে দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তারেক রহমানের এই উত্থান কেবল বিএনপির জন্যই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনীতির জন্যও একটি বড় মোড়। সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ কতটুকু গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
