নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঘরের মাঠে বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার মিশনটা দাপটের সাথেই শুরু করল টিম ইন্ডিয়া। মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ২৯ রানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের একক নৈপুণ্য এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে নিজেদের আধিপত্য জানান দিল স্বাগতিকরা।
সূর্যকুমারের অধিনায়কত্বসুলভ ইনিংস ম্যাচের শুরুতেই টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। শুরুটা কিছুটা নড়বড়ে হলেও ভারতের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। মাত্র ৪৯ বলে ৮৪ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে লড়াকু পুজি এনে দেন তিনি। তার এই ইনিংসে ছিল মুগ্ধকর সব শটের মহড়া। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ইশান কিশান ও তিলক ভার্মা। তাদের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান সংগ্রহ করে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত শুরু করলেও ডেথ ওভারে সূর্যকুমারের তান্ডব থামাতে ব্যর্থ হয়।
Read More: বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি পাকিস্তান: সংকট মেটাতে শ্রীলঙ্কার আরজি
ভারতীয় বোলারদের তোপ ১৬২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে মোহাম্মদ সিরাজের গতি আর সুইংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারছিল না আমেরিকান টপ অর্ডার। সিরাজ ২৯ রান দিয়ে একাই শিকার করেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাকে যোগ্য সহায়তা করেন আর্শদীপ সিং। মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত চাপে রাখে ভারতের বোলিং ইউনিট।
যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই ও হার যদিও মিডল অর্ডারে সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি (৩৭) এবং মিলিন্দ কুমার (৩৪) কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ দিকে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রানে থামে যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংস। ফলে ২৯ রানের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।
বিশ্লেষণ ও প্রভাব এই জয়ের মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করল কেন তারা ঘরের মাঠে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় দাবিদার। বিশেষ করে বড় আসরের প্রথম ম্যাচেই জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, হারলেও ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই প্রশংসার দাবি রাখে। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী সমীকরণে এই জয় ভারতকে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিল।
সামনের লক্ষ্য ভারতের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নজর থাকবে ভক্তদের। বিশেষ করে ব্যাটিং অর্ডারের শুরুর দিকের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে চাইবে ম্যানেজমেন্ট। মুম্বাইয়ের এই জয়ের রেশ নিয়ে পরের ম্যাচে আরও আত্মবিশ্বাসী ভারতকেই দেখা যাবে বলে আশা করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
