ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: বিশ্ব ক্রিকেটে ফের বাজছে অস্থিরতার সুর। ২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি পুরুষ টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে বড়সড় চমক দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা।
কেন এই বয়কটের ঘোষণা? ঘটনার সূত্রপাত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় দ্বন্দ্ব থেকে। ভারত সরকার তাদের জাতীয় দলকে পাকিস্তানে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিসহ একাধিক টুর্নামেন্টে ‘হাইব্রিড মডেল’ অনুসরণ করতে হচ্ছে। পিসিবি মনে করছে, ভারত যদি পাকিস্তানে না যায়, তবে তাদেরও ভারতে গিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এই নীতিগত অবস্থান থেকেই বয়কটের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান।
Read More: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ: বয়কটের হুঙ্কার নাকি সমঝোতা? দ্বিধাবিভক্ত সমর্থকরা
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিশেষ আবেদন যেহেতু ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা, তাই পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে বড় ধরণের আর্থিক ও দর্শক-চাহিদার ঝুঁকির মুখে পড়েছে দেশটি। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে তারা উল্লেখ করেছে যে, এশিয়ার একটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের সার্থকতা এবং এশিয়ার ক্রিকেটীয় সংহতির জন্য অপরিহার্য। শ্রীলঙ্কা অনুরোধ জানিয়েছে যাতে ব্যক্তিগত বা দ্বিপাক্ষিক বিরোধের জেরে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ও দর্শকদের ওপর প্রভাব ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধ বরাবরই দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশও আইসিসির পূর্ণ সদস্য এবং এই অঞ্চলের একটি বড় শক্তি। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে সেটি হবে আইসিসির জন্য বড় একটি বাণিজ্যিক ক্ষতি। অন্যদিকে, বাংলাদেশি দর্শকদের কাছে পাকিস্তান-ভারত লড়াই সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এই মহারণ না থাকলে বিশ্বকাপের জৌলুস অনেকটাই ম্লান হয়ে যাবে।
আইসিসি-র অবস্থান ও আইনি জটিলতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখনো এই বিষয়ে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে তাদের বড় ধরণের জরিমানা এবং ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্ট থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকি থাকে। পাকিস্তান এখন সেই ঝুঁকি নিয়েও তাদের দাবিতে অনড় থাকতে চায় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? শ্রীলঙ্কার এই আবেদন পিসিবি কতটা গুরুত্ব সহকারে নেবে, তা এখনো অস্পষ্ট। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আইসিসির বোর্ড সভায় এই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা হবে এবং মাঠের লড়াই মাঠেই থাকবে। তবে আপাতত এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ক্রিকেটে উত্তাপ বেড়েই চলেছে।
Follow Us On Facebook: A2News24
