নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তাকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি কেবল তার ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কথা বলেননি, বরং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার বিশদ পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন।
নির্বাসন থেকে ফেরা এবং এক নতুন নেতৃত্বের বার্তা ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তারেক রহমান এক আবেগঘন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বিমানবন্দরে লাখো মানুষের উষ্ণ সংবর্ধনা এবং এর মাত্র পাঁচ দিন পর মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু তার কাঁধে এক বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করে। ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ এবং ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার এই পদযাত্রা কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে নয়, বরং কর্মীদের ভালোবাসায় এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার থেকে শুরু হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন: ভারত থেকে ফেরার নতুন ছক
রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের ব্লুপ্রিন্ট তারেক রহমান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলছেন না, তিনি একটি টেকনোক্র্যাটিক বা প্রযুক্তি নির্ভর সংস্কার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তার বিশেষ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:
-
পরিবেশ রক্ষা: ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় ১২ হাজার মাইল খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা।
-
জ্বালানি ও পরিচ্ছন্নতা: বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিশেষ জেনারেটর স্থাপন এবং ঢাকাকে ধোঁয়াশামুক্ত করতে ৫০টি নতুন গ্রিন স্পেস তৈরি।
-
অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দক্ষ অভিবাসী কর্মী তৈরিতে কারিগরি কলেজগুলোর সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ প্রদান।
প্রতিহিংসা নয়, বরং ন্যায়বিচার ও সাম্য সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তার দল প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা সাধারণ মানুষকে হত্যার সাথে জড়িত ছিল, তাদের অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি করতে হবে। তিনি একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছেন যেখানে নারী, শিশু এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারবে।
কূটনৈতিক সমীকরণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বাড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি ভারত ও রাশিয়ার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথেও বিএনপির একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এই সাক্ষাৎকারে ফুটে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই ‘পরিবর্তিত ইমেজ’ এবং ‘পলিসি মেকার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় হতে পারে। যদি তারেক রহমান তার পরিকল্পনার ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেন, তবে তা বাংলাদেশের চেহারা বদলে দিতে সক্ষম বলে তিনি মনে করেন। এখন দেখার বিষয়, সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তার এই স্বপ্নের বাংলাদেশের পক্ষে কতটা সমর্থন জানায়।
Follow Us on Facebook: A2news24
