রাজধানীর গুলশানে আকস্মিক ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার সংখ্যা আরও বেড়েছে। শনিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে মিছিলে অংশগ্রহণ ও নাশকতার অভিযোগে আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ নিয়ে আলোচিত এই ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ জনে।
ডিএমপির তথ্য ও সাঁড়াশি অভিযান
রোববার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন নতুন করে এই গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গুলশানে মিছিল ও নাশকতায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় শনিবার রাতে বিভিন্ন স্থান থেকে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় প্রাথমিকভাবে তাদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
এর আগে শনিবার সকালে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার মিছিল চলাকালে ঘটনাস্থল থেকেই দুজনকে হাতেনাতে আটক করেছিল গুলশান থানা পুলিশ। ফলে নতুন ৪০ জনসহ তিন দফায় মোট ৭৪ জন পুলিশের জালে ধরা পড়ল।
Read More: বাউফলে তীব্র লোডশেডিংয়ে সংকটে মৃৎশিল্প: বন্ধের মুখে অর্ধশত কারখানা
ঘটনার সূত্রপাত ও মামলার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ নম্বরের ভোলা মসজিদের সামনে এবং সংলগ্ন সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সংগঠনটির প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন নেতাকর্মী আকস্মিকভাবে জড়ো হয়ে একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মো. আরাফাত (২০) ও আ. রহিম (৪৯) নামে দুজনকে আটক করা হয় এবং সড়ক থেকে পাঁচটি অবিস্ফোরিত তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, পুরো মিছিলটি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল।
এ ঘটনায় শুক্রবারই গুলশান থানায় বিস্ফোরক উপাদানাবলি আইন ও নাশকতার অভিযোগে ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮০ থেকে ১০০ জনের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। এজাহারে সরাসরি ককটেল বিস্ফোরণ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা নজরদারি
গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক এলাকায় প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ও মিছিলের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পুলিশ প্রশাসন। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, দূতাবাস এলাকা ও প্রবেশপথগুলোতে বাড়তি পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে এবং ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে পলাতক বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
উপসংহার
গুলশানে ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এখন পর্যন্ত ৭৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং আটক ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories


























