সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকা ফুটবলারদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ছবি কিংবা মিম তৈরি হওয়া নতুন কিছু নয়। তবে কিলিয়ান এমবাপের ক্ষেত্রে এই রসিকতা যেন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছিল। ক্লাব ও জাতীয় দলের ভেতর অতিরিক্ত প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে সামরিক পোশাক পরিয়ে নানা ঐতিহাসিক স্বৈরশাসকের চেহারায় উপস্থাপন করে আসছিলেন নেটিজেনরা। দীর্ঘদিনের এই ভাইরাল ট্রেন্ড নিয়ে এবার নীরবতা ভেঙেছেন ফরাসি অধিনায়ক। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিছক তামাশা হিসেবে অনেকে এটা করলেও নৃশংস ব্যক্তিদের সঙ্গে একজন ক্রীড়াবিদের তুলনা মানুষের রাজনৈতিক ও মানবিক সচেতনতার মারাত্মক ঘাটতিকেই প্রকাশ করে।
রসিকতা ও ঐতিহাসিক নির্মমতার মধ্যকার সীমারেখা
ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম এবং ‘ফ্রান্স ফুটবল’-কে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এমবাপে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ছবি তাঁকে আনন্দ দেয় নাকি বিরক্ত করে—এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা গম্ভীর হয়েই বিশ্লেষণ করেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
এমবাপে জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁর অনুভূতি মিশ্র। তাঁর ভাষ্য, “এর একটা অংশ হয়তো মজার, কারণ বোঝা যায় অনেকেই এটা নিছক হাস্যকৌতুকের ছলে করছেন। কিন্তু এর আরেকটা দিক রয়েছে যা মোটেও উপভোগ্য নয়। কারণ আমরা সবাই জানি ইতিহাসে এই ধরনের মানুষেরা কতটা ক্ষয়ক্ষতি আর নৃশংসতা ঘটিয়ে গেছেন।”
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি আরও বলেন, “ইতিহাসে যারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে কিংবা কোটি কোটি মানুষের জীবনে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ডেকে এনেছে, তাদের সঙ্গে আমাকে মেলানো হচ্ছে। জীবনে তো আমি কখনো এমন কিছু করিনি। একদিকে জানি অনেকেই এটা লঘু চালে করেন এবং গভীর কোনো উদ্দেশ্য থাকে না; কিন্তু অন্যদিকে এটি প্রমাণ করে যে মানুষের রাজনৈতিক ও মানবিক বোধে কতটা বড় ঘাটতি রয়েছে।”
প্যারিস থেকে মাদ্রিদ: যেভাবে ডালপালা মেলেছিল এই মিম
এমবাপেকে ঘিরে স্বৈরশাসকের মতো আচরণ করার এই ধারণার সূচনা বেশ কয়েক বছর আগের। ২০২২ সালে রিয়াল মাদ্রিদের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে পিএসজির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করার পর থেকেই গুঞ্জন ওঠে—ক্লাবের খেলোয়াড় কেনাবেচা ও নীতি নির্ধারণে তাঁকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে ২০২৪ সালে এক ফরাসি কাবাব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিজের নাম ব্যবহারের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর সেই ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে এমবাপেকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যা দেন।
এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি, টিকটক ভিডিও এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সামরিক পদকখচিত পোশাকে কিংবা সিংহাসনে বসা এমবাপের ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অনেকে ব্যঙ্গ করে তাঁকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের জোসেফ স্তালিনের মতো ঐতিহাসিক একনায়কদের সমকক্ষ বানিয়ে পোস্ট করতে শুরু করেন। ক্লাব বদল করে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে আসার পরও ইন্টারনেটে এই ট্রোলের ধারা অব্যাহত থাকে।
Read More: এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি: আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের ঘোষণা
জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম ও দেম্বেলের খুনসুটি
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই রসিকতা কেবল ভক্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, একপর্যায়ে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমেও। ফরাসি সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু উসমান দেম্বেলে প্রায়ই জাতীয় দলের ক্যাম্পে এমবাপেকে সাবেক জাইরে (বর্তমান ডিআর কঙ্গো)-এর স্বৈরশাসক মোবুতু সেসে সেকোর নামানুসারে ‘মোবুতু’ বলে ডাকেন।
সাক্ষাৎকারে দেম্বেলের এই আচরণের প্রসঙ্গ উঠতেই অবশ্য হাসিমুখে প্রতিক্রিয়া জানান এমবাপে। তিনি বলেন, “উসমানের বিষয়টি একেবারেই আলাদা। ও তো এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই পেয়েছে! ওর ক্ষেত্রে এটা খাঁটি খুনসুটি এবং স্রেফ বন্ধুদের হাসাহাসি।” সতীর্থের হালকা রসিকতাকে ছাড় দিলেও বৃহত্তর পরিসরে ইতিহাস বিস্মৃত হয়ে এমন স্পর্শকাতর চরিত্র টেনে আনার অভ্যাসকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না তিনি।
উপসংহার
মাঠের বাইরে এই ইন্টারনেট সেনসেশন নিয়ে নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি মাঠেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। নতুন মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ইতোমধ্যেই দারুণ সূচনা করেছেন তিনি; উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে গোল করে দলকে পাইয়ে দিয়েছেন জয়। ডিজিটাল যুগে তারকাদের নিয়ে হাসির ছলে তৈরি মিম যে অনেক সময় স্পর্শকাতর মানবিক মূল্যবোধ ও ইতিহাসের নিষ্ঠুরতাকে খাটো করে তোলে, ফরাসি অধিনায়কের এই বক্তব্য যেন তারই এক জোরালো স্মারক।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
👉 Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
👉 Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.


























