২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
সর্বোচ্চ শাস্তি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত রায়ে জানান, জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলন দমনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা, উসকানি এবং ‘দেখামাত্র গুলির নির্দেশ’ দেওয়ার অভিযোগ প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া অডিও, ভিডিও ও সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ মামলার অন্য অভিযুক্ত শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ সাজার আদেশ এসেছে।
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। গত ১৮ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল।
Read More: বাউফলে তীব্র লোডশেডিংয়ে সংকটে মৃৎশিল্প: বন্ধের মুখে অর্ধশত কারখানা
পলাতক সব আসামি
এই মামলার মোট সাতজন আসামির প্রত্যেকেই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। মামলায় নাম থাকা অন্য আসামিরা হলেন:
১. আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)
২. মোহাম্মদ আলী আরাফাত (সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী)
৩. শেখ ফজলে শামস পরশ (সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ)
৪. মাইনুল হোসেন খান নিখিল (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ)
৫. সাদ্দাম হোসেন (সভাপতি, নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ)
৬. শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান (সাধারণ সম্পাদক, নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ)
প্রসিকিউশনের যুক্তি ও অভিযোগ
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন দল দাবি করেছিল, কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে সাধারণ মানুষকে হত্যার নীলনকশা তৈরি করা হয়। ওবায়দুল কাদের রাজপথে আন্দোলনকারীদের ওপর দলীয় ক্যাডার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর দমন-পীড়নের উসকানি দেন এবং সরাসরি দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেন। যার ফলে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশে নির্বিচারে গুলিতে অসংখ্য ছাত্র-জনতা শহীদ হন।
প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি দেশে থাকা তাদের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আবেদনও আদালতের কাছে তুলে ধরেছিল।
শেষ কথা
২০২৪ সালের রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের চূড়ান্ত মৃত্যুদণ্ডের রায়। আসামিরা পলাতক থাকলেও আদালতের এই রায়কে জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বড় এক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.


























