ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ তথা বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও সংবেদনশীল আর্থিক অনিয়মের মামলায় বড় ধাক্কা খেল ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবের বিরুদ্ধে আনা বহুল আলোচিত ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালতের সমতুল্য তিন সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত প্যানেল। দীর্ঘ শুনানির পর প্যানেল তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা ক্লাব ও প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যম ইএসপিএন (ESPN)। যদিও সিটি এক বিবৃতিতে পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে উল্লেখ করেছে, তবে রায়ের এই ফলাফল প্রমাণিত হলে বড় অঙ্কের জরিমানা, বিপুল পরিমাণ পয়েন্ট কর্তন এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে দলটির সরাসরি বহিষ্কারের মতো চরম শাস্তিও হতে পারে।
২০০৯ থেকে ২০১৮: দীর্ঘ ৯ বছরের অনিয়ম
প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের অভিযোগের মূলে ছিল ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ বছরের আর্থিক লেনদেন। তদন্তে দেখা গেছে, ক্লাবটি সঠিক ও নির্ভুল আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেনি, স্পনসরশিপের প্রকৃত আয়ের তথ্য গোপন করেছে এবং সাবেক ম্যানেজার রবার্তো মানচিনি ও শীর্ষ তারকা খেলোয়াড়দের বেতনের চুক্তি বাড়িয়ে-কমিয়ে কারসাজি করেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম সিটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। এরপর লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ডিসপুট রেজোলিউশন সেন্টারে ১২ সপ্তাহের দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই রায় প্রস্তুত করে প্যানেল।
সিটির আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া
ইএসপিএনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্যানেলের এই রায় নিয়ে কোনো সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়নি ম্যানচেস্টার সিটি। তবে ক্লাবটি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে:
“প্রিমিয়ার লিগের বিচারিক প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান এবং এর অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি রয়েছে। এটি একটি কঠোর গোপনীয় বিষয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমাদের যে অবস্থান ছিল, ক্লাব এখনো সেই অবস্থানেই অটল রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি স্বাধীন কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে এই বিষয়ের চূড়ান্ত সমাপ্তি টানবে।”
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই রায়ের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ ঠেকাতে সিটি কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা (ইনজাংশন) জারির চেষ্টা করেছিল, যদিও ক্লাব তা পরবর্তীতে অস্বীকার করেছে।
Read More: এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি: আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের ঘোষণা
সম্ভাব্য শাস্তি: পয়েন্ট কাটা নাকি লিগ থেকে বহিষ্কার?
স্বাধীন প্যানেল দোষী সাব্যস্ত করার পর এখন শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। সম্ভাব্য শাস্তিসমূহ হতে পারে:
-
রেকর্ড অঙ্কের জরিমানা: শত কোটি পাউন্ডের বিশাল আর্থিক জরিমানা।
-
বিপুল পয়েন্ট কর্তন: চলতি কিংবা আগামী মৌসুমে বড় অঙ্কের পয়েন্ট কেটে নেওয়া (৩০ থেকে ৬০ বা তারও বেশি পয়েন্ট কাটা হতে পারে)।
-
প্রিমিয়ার লিগ থেকে নির্বাসন: নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে দলটিকে প্রিমিয়ার লিগ থেকে সরাসরি বহিষ্কার বা অবনমিত (রেলিগেশন) করা হতে পারে।
-
অতীতের ট্রফি প্রত্যাহার: বিতর্কিত ওই ৯ বছরের অর্জিত প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাগুলো বাতিলের দাবিও তুলতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলো।
আপিল ও ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই
এই রায় চূড়ান্তভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের সাথে সাথেই ম্যানচেস্টার সিটি উচ্চতর ট্রাইব্যুনালে আপিল করবে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক ব্রিটিশ গণমাধ্যম। তবে এর আগে ২০২০ সালে উয়েফার আনা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার পর কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (CAS)-এ গিয়ে সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করিয়েছিল সিটি। তবে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সিএএস (CAS)-এ যাওয়ার সুযোগ নেই, পুরো আপিল প্রক্রিয়াটি প্রিমিয়ার লিগের নিজস্ব আইনি কাঠামোর ভেতরেই লড়তে হবে।
শেষ কথা
পেপ গার্দিওলার কোচিংয়ে গত এক দশক ধরে আধুনিক ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করে চলা ক্লাবটির আকাশছোঁয়া সাফল্যের ওপর এই রায় কালো ছায়া ফেলল। ফুটবল দুনিয়া এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে স্বাধীন প্যানেল ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে কী ঐতিহাসিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
👉 Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
👉 Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.










