স্মার্টফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিয়ে এলো মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। বহুল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তারা বাজারে নিয়ে এসেছে নিজেদের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইফোন ডুও’ (iPhone Duo)। ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় অ্যাপল পার্কের স্টিভ জবস থিয়েটারে আয়োজিত বার্ষিক অনুষ্ঠানে এই চমকপ্রদ ডিভাইসটি উন্মোচন করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হওয়া নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টার্নাসের নেতৃত্বে এটিই ছিল অ্যাপলের প্রথম কোনো বড় ফ্ল্যাগশিপ আয়োজন।
‘ওয়ান মোর থিং’ এবং সবচেয়ে বড় আইফোন স্ক্রিন
নতুন অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডসের আপডেট জানানোর পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের সেই ঐতিহাসিক বাক্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে জন টার্নাস বলেন, “আসলে, আরও একটি বিষয় বাকি আছে (There is one more thing)।” এরপরই দর্শকদের সামনে হাজির করা হয় ফোল্ডেবল আইফোন ডুও।
টার্নাস জানান, এটি এখন পর্যন্ত আইফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিসপ্লেযুক্ত ডিভাইস, যা ভাঁজ করলে অনায়াসে সাধারণ পকেটে ঢুকে যায়। দেখতে একটি পাসপোর্টের সমান ডিভাইসটির বাইরের দিকে রয়েছে ৫.৪ ইঞ্চির সাধারণ স্ক্রিন। কিন্তু বইয়ের মতো খুললেই ভেতরে বেরিয়ে আসে বিশাল ৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে। এই ভেতরের স্ক্রিনটি নতুন আইফোন ১৮ প্রো-এর তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বড়। ব্যবহারকারীরা চাইলে স্ক্রিনটি দুই ভাগে ভাগ করে একই সঙ্গে দুটি আলাদা অ্যাপ চালাতে পারবেন অথবা একই ওয়েবসাইটের দুটি উইন্ডো পাশাপাশি রেখে কাজ করতে পারবেন।
Read More: এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি: আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের ঘোষণা
অ্যাপল পেন্সিল সমর্থন ও দাম
আইফোন ডুও-র সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে অ্যাপল পেন্সিল ব্যবহার করা যাবে। আগে এই সুবিধা কেবল আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ডিভাইসটি পুরোপুরি খুলে দিলে তা অ্যাপলের তৈরি এ যাবৎকালের সবচেয়ে পাতলা ফোনে পরিণত হয়। তবে প্রিমিয়াম এই ডিভাইসের জন্য গুনতে হবে বড় অঙ্কের অর্থ। আইফোন ডুও-র প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছে ১,৯৯৯ মার্কিন ডলার, যা অ্যাপলের ইতিহাসে যেকোনো একক আইফোনের জন্য সর্বোচ্চ দাম।
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ ও অন্যান্য ডিভাইস
ফোল্ডেবল ফোনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলও উন্মোচন করা হয়েছে। এগুলোর দাম শুরু হচ্ছে যথাক্রমে ১,১১৯ ও ১,২৯৯ ডলার থেকে। বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের ঘাটতি থাকার কারণে আগের প্রজন্মের তুলনায় প্রো মডেলগুলোর দাম প্রায় ১০০ ডলার বাড়ানো হয়েছে। নতুন মডেলে উন্নত ব্যাটারি লাইফ (প্রো ম্যাক্সে সর্বোচ্চ ৪৫ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাক), দ্রুতগতির চার্জিং ব্যবস্থা এবং চলমান বিষয়বস্তুর ওপর স্বয়ংক্রিয় নজরদারির জন্য ‘স্মার্ট ফোকাস ট্র্যাকিং’ ক্যামেরা ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ধরতে সিরি-তে বড় ধরনের আপগ্রেড এনেছে অ্যাপল, যেখানে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজারে আসার তারিখ
আইফোন ১৮ সিরিজের জন্য প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে এবং গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে ১৮ সেপ্টেম্বর। তবে ফোল্ডেবল আইফোন ডুও পেতে ক্রেতাদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে; এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে।
স্যামসাং, গুগল ও মটোরোলা বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই ফোল্ডেবল ফোন বিক্রি করে আসছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল সাধারণত কোনো নতুন প্রযুক্তি বাজারে থিতু হওয়া এবং তার সমস্যাগুলো সমাধান হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। নতুন সিইও জন টার্নাসের হাত ধরে অ্যাপল এই বিভাগে দেরিতে প্রবেশ করলেও তাদের ব্র্যান্ডভ্যালুর কারণে ফোল্ডেবল ফোনের বাজার আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেষ কথা
স্মার্টফোনের বাজারে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী রূপ ভেঙে নতুন ফোল্ডেবল যুগে পা রাখল অ্যাপল। দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও বড় স্ক্রিনের সুবিধা, অ্যাপল পেন্সিল সাপোর্ট এবং নতুন সিইওর আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি আইফোনপ্রেমীদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, তা দেখতে এখন ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
👉 Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
👉 Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.
