মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও দ্রুত বেড়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের প্রধান প্রধান নৌপথ ও পাইপলাইনে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ের দাম বৃদ্ধি
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সোমবার সকালে নভেম্বর সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ২ দশমিক ৯০ ডলার বা ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২ দশমিক ২৭ ডলার বা ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ৩২ ডলারে।
এর ফলে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দামই আবার ১০০ ডলারের ওপরে উঠে এসেছে। গত জুলাইয়ের পর এই প্রথম তেলের দাম এই উচ্চতায় পৌঁছাল। শুধু গত এক সপ্তাহেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
Read More: সৌদিতে হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: কার্যকারিতার পরীক্ষায় ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা চুক্তি’
কেন হঠাৎ এই অস্থিরতা?
তেলের দাম এভাবে দ্রুত বাড়ার পেছনে প্রধান কিছু সংকট কাজ করছে:
১. সৌদির পাইপলাইন বন্ধ: ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি আরব তাদের গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন দিয়ে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এই একটি পাইপলাইন বন্ধ থাকার কারণেই বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ এখন সরাসরি ঝুঁকিতে পড়েছে।
২. বাব আল-মানদেবে হুথিদের অবস্থান: ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে তাদের প্রভাব আরও বাড়ল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশ্বের মোট তেলের ৪ থেকে ৫ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছিল।
৩. স্থগিত হলো হরমুজ আলোচনা: ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা আকস্মিকভাবে স্থগিত হয়ে গেছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তেলের দাম কি আরও বাড়বে?
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘আইজি মার্কেট’-এর বিশ্লেষক টনি সাইকামোর জানিয়েছেন, ওমানে শান্তি আলোচনার কোনো সুরাহা না হলে কিংবা সৌদি আরবের বন্ধ পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে তেলের দাম আরও বাড়বে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম চলতি বছরের মার্চে দেখা ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ড পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আগে জুনে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা ভেঙে যায়। এরপর যুদ্ধ বন্ধে নতুন কোনো স্থায়ী শান্তি আলোচনা না হওয়ায় সরবরাহ সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
শেষ কথা
জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন দুশ্চিন্তা নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আরও তীব্র হতে পারে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.
