নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে একযোগে বিশ্ব রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো বক্তব্য রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ৩৫ মিনিটের এক দীর্ঘ ও আগ্রাসী ভাষণে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তাঁর প্রশাসনের অধীনে ওয়াশিংটন যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। মার্কিন শীর্ষ দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর লাইভ প্রতিবেদনে এই কড়া বক্তব্যের বিস্তারিত উঠে এসেছে।
ইরানকে সরাসরি ‘ধ্বংস’ করার আলটিমেটাম
ভাষণের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অংশ ছিল ইরানকে ঘিরে। ট্রাম্প সরাসরি বলেন, তেহরানের ব্যাপারে তাঁর সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় একটি কঠোর চুক্তি সম্পাদন করা, নয়তো ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে সামরিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা কি তাদের সাথে এমন চুক্তি করব যাতে তারা পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে, নাকি তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করে এমন এক নরকে নিক্ষেপ করব যেখান থেকে আর কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না?” তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ডে দুটি বিশাল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন চমক দিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ডেনমার্কের সাথে এক বিশেষ সমঝোতার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে দুটি ‘অত্যন্ত বড়’ স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রাখতেই অবিলম্বে সেখানে বড় আকারের মার্কিন সেনা উপস্থিতি গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
Read More: সৌদিতে হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: কার্যকারিতার পরীক্ষায় ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা চুক্তি’
বিশ্বায়ন, অভিবাসন ও ইউনেস্কোর কড়া সমালোচনা
জাতিসংঘের বিভিন্ন নীতি ও বৈশ্বিক কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করে সাবেক এই রিয়েল এস্টেট মোঘল বলেন, “যখন অন্যরা শুধু কথা বলেছে, আমি কাজ করে দেখিয়েছি।” অবৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করার অভিযোগ তুলে তিনি ইউনেস্কোসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একহাত নেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, বৈশ্বিক অভিবাসন নীতি পশ্চিমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধ্বংস করছে। একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোকে বৈশ্বিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের সাথে তুলনা করে তাদের সমূলে উপড়ে ফেলার ঘোষণা দেন।
কিউবান প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট
ভাষণে লাতিন আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক সরকারগুলোর সমালোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প কিউবাকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে আখ্যায়িত করেন। এর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে জাতিসংঘ অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন কিউবার সরকারি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
শেষ কথা
জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মিত্র দেশগুলোর অনেকেই ট্রাম্পের একক আধিপত্যবাদী নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, ওয়াশিংটন যে শক্তি প্রদর্শনের পথেই হাঁটছে তা এই ভাষণে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
👉 Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
👉 Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.


























