ক্রীড়া প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪:
মাঠে আলো জ্বলবে, গ্যালারি উপচে পড়বে উল্লাসে, হাজারো কণ্ঠের গর্জনে কেঁপে উঠবে স্টেডিয়াম; কিন্তু সেই পরিচিত আকাশি-সাদা ১০ নম্বর জার্সি গায়ে আর দেখা যাবে না ফুটবল জাদুকরকে। দীর্ঘ দুই দশকের রূপকথার ইতি টেনে অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। যে পথচলা শুরু হয়েছিল হতাশা আর কান্নার মধ্য দিয়ে, তার সমাপ্তি ঘটল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা পূর্ণতায়।
অভিযোগের দেয়াল ভেঙে কিংবদন্তি হওয়ার লড়াই
২০০৫ সালে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের পর থেকেই মেসির কাঁধে চেপে বসেছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার যোগ্য উত্তরসূরি হওয়ার পাহাড়সম প্রত্যাশা। বছরের পর বছর গোল আর অ্যাসিস্টের ফুলঝুরি ছুটিয়েও তাঁকে শুনতে হয়েছিল নির্মম তিরস্কার—‘ক্লাবের মেসি আর দেশের মেসি এক নন।’ ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে মারাকানার সেই হৃদয়ভাঙা দৃশ্য, এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ সালের টানা দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে চোখের জলে তাঁর মাঠ ছাড়ার স্মৃতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের বেদনায় নীল করেছিল। একবার তো তীব্র অভিমানে অবসরই ঘোষণা করে বসেছিলেন। কিন্তু ভালোবাসা থেকে কি আসলেই পালানো যায়? তিনি ফিরে এসেছিলেন, কারণ দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তখনও তাঁকে ডাকছিল।
Read More: এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি: আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের ঘোষণা
মারাকানা থেকে লুসাইল: রূপকথার পুনর্জন্ম
ভাঙতে ভাঙতেই মানুষ একসময় অজেয় হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে মারাকানায় ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে ঘুচল ২৮ বছরের ট্রফিখরা, অবসান ঘটল মেসির জাতীয় দলের আক্ষেপের। এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ যেন স্বয়ং ফুটবল ঈশ্বরের নিজের হাতে লেখা এক মহাকাব্য। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরে মেসি শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়নই হননি, মুছে দিয়েছেন পূর্বের সব অপমান ও অশ্রুর দাগ। এরপর ২০২৪ সালে দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা জয় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে পৌঁছে দেয় পরম পূর্ণতায়।
‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু নেই’
বিদায়বেলায় আবেগাপ্লুত মেসি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর আত্মাকে ক্ষতবিক্ষত করেছে; কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে তাঁর আর উজাড় করে দেওয়ার মতো কিছুই বাকি নেই। বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা, অলিম্পিক সোনা এবং ফিনালিসিমা জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চের সবটুকু পাওনা চুকিয়েছেন তিনি। বিদায়লগ্নে মেসি আরও জানিয়েছেন, এখন থেকে তিনি আর দলের সেনাপতি নন, বরং গ্যালারির সাধারণ ভক্তদের মতোই আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জুগিয়ে যাবেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।
বাংলাদেশে কোটি সমর্থকের অন্তরে মেসির অমর অবস্থান
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার ফুটবল উন্মাদনা এক অদ্ভুত আবেগের নাম। মেসি যখনই দেশের জার্সিতে মাঠে নেমেছেন, মধ্যরাতে ঢাকার রাজপথ থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের হাটবাজার পর্যন্ত রূপ নিয়েছিল এক উৎসবের আবহে। ২০১৪ সালের কান্না কিংবা ২০২২-এর মধ্যরাতের উন্মাতাল উদযাপন—সবকিছুতেই মেসির পাশে ছিলেন এ দেশের কোটি ভক্ত। ফলে তাঁর অবসরের ঘোষণায় বাংলাদেশি সমর্থকদের মাঝেও নেমে এসেছে এক অপূরণীয় শূন্যতা। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় ছিলেন না, ছিলেন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে বারবার উঠে দাঁড়ানোর এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা।
উপসংহার: ইতিহাসের পাতায় অক্ষয় ১০ নম্বর
ভবিষ্যতে হয়তো আরও বহু প্রতিভাবান ফুটবলার আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন। কিন্তু এই জার্সির ওজন যে কতটা ভারী হতে পারে, তা চিরকাল মনে করিয়ে দেবে সেই লাজুক ছেলেটির গল্প—যে বারবার পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়িয়ে দেশকে এনে দিয়েছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মুকুট। মেসিরা হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান, কিন্তু ফুটবলের সবুজ আঙিনায় এবং ইতিহাসের পাতায় তাঁদের মহাকাব্যিক গল্প কোনোদিন ম্লান হয় না।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
👉 Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
👉 Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.
