রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিহিংসা ও সামাজিক বিদ্বেষ দূর করে সহনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থক কিংবা নিরীহ কোনো পরিবারের ওপর যেন অন্যায় বা অমানবিক আচরণ করা না হয়, সে বিষয়ে সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মতাদর্শ যা-ই হোক না কেন, অপরাধে জড়িত না থাকা কোনো সাধারণ নাগরিককে যাতে হেনস্তার শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তরুণ এই সংসদ সদস্য।
অপরাধীর দায় ব্যক্তির, নিরীহ পরিবারের নয়
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও নিজের সংসদীয় আসনে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছরে ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে দেশের মানুষের ওপর বহু অত্যাচার-নিপীড়ন চালানো হয়েছে। তবে সেই ক্ষোভ থেকে যদি এখন আওয়ামী লীগের নিছক সাধারণ সমর্থক বা তাঁদের পরিবার-পরিজনের ওপর প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালানো হয়, তবে সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা পাবে না।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যারা সরাসরি দুর্নীতি, অর্থপাচার, মানবতাবিরোধী অপরাধ, নিপীড়ন কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু শুধু মতাদর্শগত কারণে কোনো সাধারণ ভোটার কিংবা কোনো কর্মীর পরিবারের নারী, শিশু ও নিরীহ স্বজনদের ওপর অযৌক্তিক নিপীড়ন চালানো কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
Read More: বাউফলে তীব্র লোডশেডিংয়ে সংকটে মৃৎশিল্প: বন্ধের মুখে অর্ধশত কারখানা
প্রতিহিংসামুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয়
ইশরাক হোসেন তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের মূল ভিত্তিই হলো আইনের শাসন ও মানবিক মর্যাদা। বিগত সরকারের আমলে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের পরিবার যেভাবে অমানবিক হয়রানি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে, সেই একই ভুল নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই পুনরাবৃত্তি করা যাবে না।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সর্বস্তরের মানুষের নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানের প্রধান অগ্রাধিকার। কোনো সুযোগসন্ধানী বা দুর্বৃত্ত যেন ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে রাজনৈতিক ট্যাগ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে হামলা বা জুলুম করতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
জনকল্যাণমূলক রাজনীতির ওপর জোর
ব্যক্তিগত ক্ষোভের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের আস্থা অর্জনের রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা-৬ আসনের এই প্রতিনিধি বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে হলে ইতিবাচক মানসিকতা প্রয়োজন। প্রশাসনিক কাঠামো ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তাদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করতে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উপসংহার
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে সমাজ থেকে সহিংসতা ও প্রতিশোধের বৃত্ত ভেঙে বের হয়ে আসাই এখন অন্যতম বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। এমন বাস্তবতায় একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মানবিক মর্যাদা রক্ষার পক্ষে ইশরাক হোসেনের এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories


























