চরম উত্তাপে জটিল কোষের কোনো প্রাণের বেঁচে থাকা সম্ভব নয় বলেই দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করতেন বিজ্ঞানীরা। কারণ অতিরিক্ত তাপমাত্রায় কোষের নিউক্লিয়াস ও সংবেদনশীল জিনগত উপাদানগুলো ভেঙে পড়ে। তবে সেই বৈজ্ঞানিক ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) অর্থায়নে পরিচালিত এক যুগান্তকারী গবেষণা। চরম উত্তপ্ত পরিবেশেও জটিল কোষের প্রাণ কীভাবে টিকে থাকতে ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে, তার নতুন রেকর্ড গড়েছে এক আশ্চর্য অ্যামিবা। খ্যাতনামা বিজ্ঞান সাময়িকী সেল (Cell)-এ গবেষণার এ ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
লাসেন ভলকানিকে মিলল ‘ফায়ার অ্যামিবা’
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লাসেন ভলকানিক ন্যাশনাল পার্কের ফুটন্ত গরম পানির উৎসে বিজ্ঞানীরা এই এককোষী জটিল অণুজীবের সন্ধান পেয়েছেন। বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ইনসেন্ডিয়ামিবা ক্যাসকাডেনসিস (Incendiamoeba cascadensis), যাকে গবেষকরা ডাকছেন ‘ফায়ার অ্যামিবা’ (Fire Amoeba) নামে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই অ্যামিবাটি রেকর্ড ১৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রাতেও কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করতে পুরোপুরি সক্ষম। এর আগে ইউক্যারিওট বা জটিল কোষের প্রাণীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বেঁচে থাকার তাপমাত্রা রেকর্ড ছিল ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস), যা কিছু নির্দিষ্ট ছত্রাক ও লাল শৈবালে দেখা যেত। এমনকি ১৪৫ ডিগ্রির ওপরে এর বংশবৃদ্ধি থামলেও, ১৪৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৬৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রাতেও এটি সচল থাকে এবং খাবারের সন্ধান চালিয়ে যেতে পারে।
Read More: স্যামসাং ও গুগলের নতুন চমক: বাজারে আসছে জেমিনাই চালিত এআই স্মার্ট চশমা
কেন এই আবিষ্কার এত বড় চমক?
পৃথিবীর জীবজগৎ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—প্রোক্যারিওট (আদিকোষী) এবং ইউক্যারিওট (প্রকৃতকোষী)। ব্যাকটেরিয়া ও আর্কিয়ার মতো প্রোক্যারিওটদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না, ফলে প্রচণ্ড তাপে তাদের কোষের ভেতরের যন্ত্রপাতি সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। কিন্তু ইউক্যারিওটদের ভেতর সুরক্ষিত নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ও জটিল কোষীয় কাঠামো থাকে।
বিজ্ঞানীদের সাধারণ ধারণা ছিল, ১৪৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বেশি তাপে ইউক্যারিওটের কোষের পর্দা (Membrane) অক্ষত থাকতে পারে না। ফায়ার অ্যামিবা বিজ্ঞানীদের সেই প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। গবেষণার প্রধান লেখক ও সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির গবেষক বেরিল রাপাপোর্ট জানান, কোষের পর্দা নিয়ে এমন পূর্বধারণার কারণেই হয়তো বিজ্ঞানীরা এতদিন চরম তাপমাত্রায় জটিল প্রাণের সন্ধান করেননি।
কীভাবে বেঁচে থাকে এই বিস্ময়কর জীব?
বিজ্ঞানীরা অ্যামিবাটির জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, উচ্চ তাপমাত্রায় এর ডিএনএ সুরক্ষিত রাখতে এবং ভেঙে পড়া রোধ করতে বিশেষ কিছু জিন সক্রিয় হয়ে ওঠে। এছাড়া প্রোটিনের ভাঁজ অক্ষত রাখতে এটি এমন কিছু প্রোটিন তৈরি করে, যেগুলোর উপরিভাগে উচ্চ ধনাত্মক চার্জ (Positive Surface Charge) থাকে। এই বিশেষ কৌশলটি সাধারণত চরম তাপে থাকা আদি ব্যাকটেরিয়া ও আর্কিয়াদের মধ্যে দেখা যায়।
মহাকাশে প্রাণ খোঁজার নতুন দুয়ার
মঙ্গল গ্রহ কিংবা অন্যান্য প্রতিকূল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধান করছেন অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্টরা। ওয়াশিংটনে নাসার সদর দপ্তরের এক্সোবায়োলজি প্রোগ্রামের বিজ্ঞানী অ্যালিসন ওলকট বলেন:
“চরম পরিবেশে টিকে থাকা এসব অণুজীব আমাদের পৃথিবীতে প্রাণের জৈব-রাসায়নিক সীমাবদ্ধতা বুঝতে সাহায্য করে। এই আবিষ্কার নাসার ভিনগ্রহে প্রাণ অনুসন্ধানের ধারণাকে আরও প্রসারিত করবে—প্রাণ কেবল কোথায় থাকতে পারে তাই নয়, সেই প্রাণ কতটা জটিল রূপ নিতে পারে তাও এখন নতুন করে ভাবাচ্ছে।”
তবে গবেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, কেবল তাপমাত্রা সহ্য করাই প্রাণের একমাত্র শর্ত নয়। উপযুক্ত অম্লতা (pH), অক্সিজেন, পানির উপস্থিতি এবং খাদ্যের শৃঙ্খলও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবুও প্রতিকূল উত্তাপে জটিল কোষের এই অদম্য লড়াই বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে যে, মহাবিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে হয়তো আমাদের কল্পনার চেয়েও বৈরী পরিবেশে বহাল তবিয়তে টিকে রয়েছে জটিল প্রাণের অস্তিত্ব।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
👉 Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
👉 Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.


























