জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বিক্রি করে ব্যক্তিগত ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মে জড়ানোর অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে সংগঠনের নেতারা মন্তব্য করেছেন, নিজের অপরাধ ও দুর্নীতির জবাব না দিয়ে উল্টো অন্যদের দিকে আঙুল তোলা মূলত ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
সংবাদ সম্মেলনে কড়া সমালোচনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও কেন্দ্রীয় নেতারা এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর যে ছাত্রসমাজ দেশকে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিল, ক্ষমতার লোভে পড়ে কিছু সুবিধাবাদী সমন্বয়ক সেই স্বপ্নকে কলঙ্কিত করেছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আসিফ মাহমুদ বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার, বদলি এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার অনিয়মে যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে দুদক যখন এসব অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে, তখন তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের বদলে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আগ্রাসী বক্তব্য দিচ্ছেন এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন।
Read More: বেরিয়ে আসছে ইউনূস সরকারের দেড় বছরের লুটপাট: দুদকে অভিযোগের পাহাড়, অনুসন্ধানে প্রশাসন
‘জনগণের সামনে স্পষ্ট হিসাব দিন’
ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কেউ যদি দুর্নীতি করে, তবে তার কোনো ছাড় হতে পারে না। আসিফ মাহমুদ নিজেকে ধোয়া তুলসীপাতা প্রমাণের যে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, তা দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। তাঁর অবস্থা এখন পুরোপুরি চোরের মায়ের বড় গলার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, শুধু মুখের কথায় এড়িয়ে না গিয়ে নিজের ও পরিবারের যাবতীয় ব্যাংক হিসাব, দায়িত্ব পালনকালীন সম্পদ এবং আয়ের বিস্তারিত উৎস জাতির সামনে প্রকাশ করা উচিত। তদন্তের গতি থামিয়ে দিতে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের যেকোনো অপচেষ্টা ছাত্রসমাজ রুখে দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
দুদকের প্রতি স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান
সংবাদ সম্মেলন থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি যত বড় পদেই ছিলেন না কেন, তাঁর অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা বা ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরুর দাবি জানান তারা।
শেষ কথা
জুলাই বিপ্লবের সহযোগী শক্তিগুলোর মধ্যেই এখন পারস্পরিক দোষারোপ ও দুর্নীতির প্রশ্নে স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ত্যাগের সুফল কোনো একক গোষ্ঠীর দুর্নীতি ও লুটপাটের শিকার হোক—এমনটা চান না তরুণ সমাজের বড় অংশ। দুদক এই অভিযোগগুলোর কতটা নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.
