২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় চালানো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় বড় রায় আসতে যাচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিন ঠিক করেছেন আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই দিন নির্ধারণ করেন। এই বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
যুক্তিতর্ক শেষ ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১৭ আগস্ট এই মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছিল। এরপর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য যেকোনো দিন (সিএভি) অপেক্ষমাণ রাখেন। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ২ আগস্ট এই সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন দল জানিয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্দেশ দেওয়া, উসকানি এবং রাজপথে হামলা চালিয়ে হত্যার যেসব অভিযোগ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল, তা তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্যের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। তাই সাত আসামির প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে প্রসিকিউশন।
Read More: বেরিয়ে আসছে ইউনূস সরকারের দেড় বছরের লুটপাট: দুদকে অভিযোগের পাহাড়, অনুসন্ধানে প্রশাসন
মামলায় অভিযুক্ত সাত আসামি
এই মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের মোট সাতজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আসামিরা হলেন:
১. ওবায়দুল কাদের (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)
২. আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)
৩. মোহাম্মদ আলী আরাফাত (সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী)
৪. শেখ ফজলে শামস পরশ (সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ)
৫. মাইনুল হোসেন খান নিখিল (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ)
৬. সাদ্দাম হোসেন (সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ)
৭. শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ)
মামলার পটভূমি
মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে দেশজুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সরাসরি নির্দেশনা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং হামলার নির্দেশনার কারণেই রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক রক্তপাত ঘটে। রাষ্ট্রপক্ষ এসব ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের আওতায় মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে বিচার শুরু করে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এই সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছিলেন।
শেষ কথা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী শাসনামলের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এটিই ট্রাইব্যুনালের অন্যতম বড় এবং আলোচিত রায় হতে যাচ্ছে। আসামিরা পলাতক থাকলেও আদালতের এই রায়ের দিকে দেশজুড়ে সবার নজর থাকবে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.
