২০২২ সালে বাজারে আসা আইফোন ১৪ প্রো দিয়ে অ্যাপল তাদের স্মার্টফোন ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল ‘ডায়নামিক আইল্যান্ড’ ও ৪৮ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরার মাধ্যমে। তবে যারা এখনো ১৪ প্রো ব্যবহার করছেন এবং পরবর্তী বড় আপগ্রেডের অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য আইফোন ১৮ প্রো প্রযুক্তিগত দিক থেকে নিয়ে আসছে এক বিশাল পরিবর্তন। প্রযুক্তি বিশ্লেষণী পোর্টাল ম্যাকরিউমার্স (MacRumors)-এর সাম্প্রতিক বিশদ তুলনামূলক নির্দেশিকায় উঠে এসেছে এই চার বছরের ব্যবধানে যুক্ত হতে যাওয়া ৩০টিরও বেশি বড় পরিবর্তনের তথ্য।
ডিজাইন ও ডিসপ্লে: স্টেইনলেস স্টিল থেকে টাইটানিয়াম ও বড় স্ক্রিন
আইফোন ১৪ প্রো-তে ছিল চকচকে স্টেইনলেস স্টিলের ভারী ফ্রেম এবং ৬.১ ইঞ্চির স্ক্রিন। বিপরীতে, আইফোন ১৮ প্রো আসছে অত্যন্ত হালকা অথচ টেকসই গ্রেড-৫ টাইটানিয়াম ফ্রেমে। এছাড়া বেজেল অনেকটাই পাতলা হওয়ার কারণে এর ডিসপ্লে সাইজ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬.৩ ইঞ্চিতে। স্ক্রিনের সুরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে আরও উন্নত স্ক্র্যাচ-প্রতিরোধী অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ লেপন। ডায়নামিক আইল্যান্ড আরও ছোট হয়ে স্ক্রিনে আরও বেশি ডিসপ্লে স্পেস নিশ্চিত করবে।
প্রসেসর ও পারফরম্যান্স: এ১৬ বায়োনিক থেকে ২ ন্যানোমিটারের এ২০ প্রো
Read More: স্যামসাং ও গুগলের নতুন চমক: বাজারে আসছে জেমিনাই চালিত এআই স্মার্ট চশমা
আইফোন ১৪ প্রো পরিচালিত হতো ৪ ন্যানোমিটারের এ১৬ বায়োনিক চিপ দিয়ে। অন্যদিকে আইফোন ১৮ প্রো-তে ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক টিএসএমসির ২ ন্যানোমিটার (2nm) প্রযুক্তিতে তৈরি ‘এ২০ প্রো’ প্রসেসর। এটি কেবল বহুগুণ দ্রুতই নয়, বরং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। সাথে যুক্ত হচ্ছে ১২ জিবি দ্রুতগতির র্যাম, যা ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ (Apple Intelligence)-এর অন-ডিভাইস জটিল এআই কাজগুলোকে চোখের পলকে সম্পন্ন করতে সক্ষম।
ক্যামেরায় যুগান্তকারী পরিবর্তন: ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ও টেট্রাপ্রিজম জুম
আইফোন ১৪ প্রো-তে ছিল ৩এক্স অপটিক্যাল জুম এবং ১২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ও টেলিফটো লেন্স। তবে ১৮ প্রো-তে পেছনের তিনটি ক্যামেরাই হতে যাচ্ছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী সেন্সর। দূরপাল্লার ছবির জন্য যুক্ত হচ্ছে ৫এক্স বা তারও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন টেট্রাপ্রিজম পেরিস্কোপ জুম। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার (Variable Aperture) প্রযুক্তি, যা ডিএসএলআর ক্যামেরার মতো আলোর মাত্রা ও ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।
বাটন ও কানেক্টিভিটি: অ্যাকশন বাটন, ক্যামেরা কন্ট্রোল ও ইউএসবি-সি
১৪ প্রো-তে ব্যবহৃত হওয়া ক্লাসিক মিউট সুইচ এবং লাইটনিং পোর্ট অতীত। আইফোন ১৮ প্রো-তে থাকছে কাস্টমাইজযোগ্য ‘অ্যাকশন বাটন’ এবং ছবি ও ভিডিও তোলার জন্য ডেডিকেটেড হ্যাপটিক ‘ক্যামেরা কন্ট্রোল’ বাটন। চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড মেনে থাকছে দ্রুতগতির ইউএসবি-সি (USB-C 3.0/Thunderbolt) পোর্ট। সাথে ওয়াই-ফাই ৭ (Wi-Fi 7) এবং কিউআই-২ (Qi2) ওয়্যারলেস ফাস্ট চার্জিং সুবিধা।
কার জন্য এই আপগ্রেড যুক্তিযুক্ত?
যারা এখনও আইফোন ১৪ প্রো বা তার আগের মডেল ব্যবহার করছেন, তাঁদের জন্য আইফোন ১৮ প্রো নিশ্চিতভাবেই এক যুগান্তকারী অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। ব্যাটারি লাইফ, অন-স্ক্রিন এআই ফিচার, ক্যামেরার বহুমুখী ব্যবহার এবং অবিশ্বাস্য প্রসেসিং গতির কারণে এই আপগ্রেড সম্পূর্ণ সার্থক ও ভবিষ্যৎ-বান্ধব হিসেবে বিবেচিত হবে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
👉 Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
👉 Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.


























