ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে বড় পর্দায় আসার যে ঝুঁকি নিয়েছিল ‘মির্জাপুর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি, তা বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখেছে। মুক্তির পর থেকেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। পঙ্কজ ত্রিপাঠী, আলী ফজল ও দিব্যেন্দুর অভিনীত এই ক্রাইম-থ্রিলারটি মাত্র আট দিনেই বিশ্বজুড়ে আয় করে নিয়েছে ২২৩ কোটি টাকার বেশি। প্রথম সপ্তাহের মতো দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দিয়েও ব্যবসা ধরে রেখেছে ছবিটি, যা ভারতের চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
প্রেক্ষাগৃহে ওটিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির রেকর্ড সাফল্য
গত ৪ সেপ্টেম্বর বড় পর্দায় আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পায় ছবিটি। প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী কনটেন্ট ও রক্তক্ষয়ী সহিংসতার কারণে ছবিটিকে ‘এ’ (অ্যাডাল্ট) সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে পারিবারিক দর্শক কম পাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন ট্রেড অ্যানালিস্টরা। তবে শুরুর দিন থেকেই পূর্বের সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দেয় কালীন ভাইয়া ও গুড্ডু পণ্ডিতের দ্বৈরথ।
ভারতের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ছবিটি দারুণ সাড়া ফেলেছে। মুক্তির মাত্র চার দিনের মাথায় ছবিটি ভারতজুড়ে নেট ১০০ কোটি টাকার ক্লাবে পা রাখে এবং বিশ্বব্যাপী গ্রস আয় দাঁড়ায় ১৫৪ কোটি টাকার উপরে। এরপর প্রথম সপ্তাহের সাত দিন পার হতেই ২০০ কোটি টাকার মাইলফলক টপকে যায় ছবিটি। ট্রেড বিশ্লেষক তারান আদর্শ জানিয়েছেন, ওটিটি সিরিজ থেকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রথম সপ্তাহান্তে এমন ঐতিহাসিক আয়ের রেকর্ড এর আগে আর কোনো ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি গড়তে পারেনি। দ্বিতীয় শুক্রবার পর্যন্ত আট দিনের হিসেবে মোট আয়ের অংক দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৩ কোটি টাকায়।
Read More: এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি: আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের ঘোষণা
কালীন ভাইয়া ও গুড্ডুর পুরোনো দ্বন্দ্ব বড় পর্দায়
চলচ্চিত্রটির প্রেক্ষাপট সাজানো হয়েছে ২০১৮ সালের প্রথম সিজনের টাইমলাইনের ভেতর, অর্থাৎ সিজন ওয়ানের ৬ ও ৭ নম্বর পর্বের মাঝামাঝি সময়ে। ফলে সিরিজে মারা যাওয়া অত্যন্ত জনপ্রিয় চরিত্র মুন্না ত্রিপাঠী (দিব্যেন্দু) কিংবা বাউজির মতো চরিত্রগুলোকে আবারও বড় পর্দায় জীবন্ত দেখার সুযোগ পেয়েছেন দর্শকেরা। কালীন ভাইয়া চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠী তাঁর সহজাত শান্ত কিন্তু নির্মম ব্যক্তিত্ব বজায় রেখেছেন, অন্যদিকে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকা গুড্ডু পণ্ডিত চরিত্রে আলী ফজল দিয়েছেন পেশীবহুল ও তীব্র অভিনয়।
পরিচালক গুরমিত সিং এবং লেখক পুনীত কৃষ্ণা ছবিটিকে স্রেফ ওয়েব সিরিজের কোনো দীর্ঘ পর্ব হিসেবে না রেখে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সিনেমাটিক অ্যাকশন ড্রামা হিসেবে রূপ দিয়েছেন। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও পূর্বাঞ্চলের সিংহাসন দখলের লড়াইয়ে নতুন সংযোজন হিসেবে রবি কিষাণ ও জিতেন্দ্র কুমারের উপস্থিতি গল্পে বাড়তি মাত্রা এনে দিয়েছে। এছাড়া শ্বেতা ত্রিপাঠী, রসিকা দুগ্গাল ও শীবা চাড্ডার উপস্থিতি মূল সিরিজের অনুভূতিকে অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
গতি কমেনি প্রেক্ষাগৃহে, নজর এবার ৩০০ কোটিতে
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় সপ্তাহে সাধারণত বড় বাজেটের সিনেমার ব্যবসায় কিছুটা ভাটা পড়ে। তবে মির্জাপুরের ক্ষেত্রে সেই পতন বেশ নিয়ন্ত্রিত। ভারতের বড় মেট্রো শহরগুলোর মাল্টিপ্লেক্স থেকে শুরু করে উত্তর ভারতের টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরের সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে এখনও হাউজফুল যাচ্ছে অধিকাংশ শো। সপ্তাহান্তে এই আয় আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন পরিবেশকেরা।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের ধারণা, চলমান এই ধারা বজায় থাকলে ভারতের অভ্যন্তরীণ নেট কালেকশনেই ছবিটি আড়াইশ কোটি টাকার ঘর অনায়াসেই পার করবে এবং বিশ্বব্যাপী আয় ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। বড় পর্দায় প্রদর্শন শেষ হওয়ার পর সিনেমাটি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাবে, তবে ডিজিটাল মুক্তির আগেই প্রেক্ষাগৃহের সফলতায় বড় জয় দেখছেন প্রযোজকেরা।
উপসংহার
ডিজিটাল দুনিয়ার জনপ্রিয় কোনো সিরিজকে প্রেক্ষাগৃহে এনে যে এমন বিপুল বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া সম্ভব, ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ সেটি প্রমাণ করেছে। দ্বিতীয় সপ্তাহে এসেও যে গতিতে ছবিটি এগোচ্ছে, তাতে এটি চলতি বছরের অন্যতম সফল বলিউড ব্লকবাস্টারের তালিকায় দৃঢ় অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories
