সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রত্যাশিত নানা কর্মকাণ্ড আর খোলামেলা মন্তব্যের কারণে সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন বলিউডের পরিচিত মুখ রাখি সাওয়ান্ত। তবে এবার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের পাশে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে নেটিজেনদের নজর কেড়েছেন তিনি। হানিয়া আমিরের প্রথম মৌলিক র্যাপ গান ‘পাবলো’-তে বিশেষ কণ্ঠবার্তা দেওয়ার পর এবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে এই পাকিস্তানি তারকার প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন রাখি। দুই প্রতিবেশী দেশের শিল্পীদের মধ্যকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময় এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘পাবলো’ গানে সমালোচকদের জবাব ও রাখির বার্তা
পাকিস্তানের নাটক ও চলচ্চিত্রের অন্যতম শীর্ষ তারকা হানিয়া আমির সম্প্রতি নিজের লেখা ও সুর করা প্রথম র্যাপ গান ‘পাবলো’ প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন ধরে রূপচর্চা, জীবনযাপন ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যেসব কটাক্ষ এবং তাঁকে ‘নকল’ বা ‘অতিরিক্ত সাবধানী’ বলে সমালোচনা করা হচ্ছিল, মূলত এই গানের মাধ্যমেই সেই বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন হানিয়া। নিজের মতো করে বাঁচার অধিকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সমালোচকদের নিজেদের সীমায় থাকার বার্তা দেন তিনি।
গানটির ভিডিওতে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে হাজির হয় এর শেষ অংশ। সেখানে সরাসরি পর্দায় উপস্থিতি না থাকলেও রাখির একটি বিশেষ অডিও বার্তা যুক্ত করা হয়। সেই বার্তায় তিনি হানিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোনো ধরনের সমালোচনা গায়ে না মেখে নিজের মতো এগিয়ে যেতে। হানিয়ার সৌন্দর্যের প্রশংসা করার পাশাপাশি হিংসুকদের তোয়াক্কা না করার পরামর্শ দিয়ে রাখি বলেন, যারা ভয় পায় তারা তো আগেই হেরে যায়। দুই ভিন্ন বিনোদন অঙ্গনের তারকার এই মেলবন্ধন মুহূর্তেই শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করে।
Read More: এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি: আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের ঘোষণা
ইনস্টাগ্রামে ভালোবাসার প্রকাশ ও প্রশংসা
গানটি প্রকাশের পর ভক্তদের ইতিবাচক সাড়ায় দারুণ উচ্ছ্বসিত হন রাখি সাওয়ান্ত। নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে ভক্তদের একাধিক প্রতিক্রিয়া শেয়ার করার পাশাপাশি তিনি একটি ছোট ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, একটি নজরকাড়া গোলাপি গাউন পরে কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রস্তুতির ফাঁকেই হানিয়ার গাওয়া ‘পাবলো’র তালে নাচছেন ও গানটি উপভোগ করছেন তিনি। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি সরাসরি লেখেন, ‘হানিয়া আমিরকে অনেক অনেক ভালোবাসা।’
বিনোদনপ্রেমীরা রাখির এই আন্তরিক সমর্থনকে বেশ ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক কিংবা ভৌগোলিক দূরত্বের ঊর্ধ্বে উঠে দুই দেশের শিল্পীদের পারস্পরিক এই সম্মান ও উৎসাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে।
হানিয়া আমিরের কাজের পরিধি
২০১৬ সালে ‘জানান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় জগতে আত্মপ্রকাশ করেন হানিয়া আমির। এরপর ‘তিতলি’, ‘ভিসাল’, ‘মেরে হামসফর’ এবং ‘কাভি ম্যায় কাভি তুম’-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় নাটকের মাধ্যমে তিনি নিজ দেশের পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশেও বিশাল দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। সম্প্রতি তাঁর অভিনীত ধারাবাহিক ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলে। এছাড়া গত বছর দিলজিৎ দোসাঞ্জের সঙ্গে ‘সরদার জি ৩’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও আন্তর্জাতিক পরিসরে দৃষ্টি কাড়েন এই অভিনেত্রী।
উপসংহার
শিল্প ও সংগীতের যে কোনো কাঁটাতার বা রাজনৈতিক সীমানা নেই, হানিয়া আমির ও রাখি সাওয়ান্তের এই সাম্প্রতিক কোলাবোরেশন যেন আবারও সেটিই প্রমাণ করল। ট্রোলের শিকার হওয়া এক সহকর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে রাখির এই খোলামেলা উৎসাহ নেটদুনিয়ায় এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories
