স্মার্টফোনের দুনিয়ায় নতুন যুগের সূচনা করেছে অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন ‘আইফোন ডুও’। এতদিন ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা স্ক্রিনের বাজারে এককভাবে রাজত্ব করে আসছিল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। তবে মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপল এই বিশেষ ক্যাটাগরিতে পা রাখায় বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। নিজেদের দীর্ঘদিনের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির শক্তিতে ভর করে অ্যাপলের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে স্যামসাং।
‘ফোল্ডেবল জগতে স্বাগতম’
অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, ফোল্ডেবল ডিভাইসের বিভাগে আরও বড় ব্র্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে তাদের নেওয়া শুরুর দিকের দূরদর্শী সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল দেরিতে এই ক্যাটাগরিতে প্রবেশ করলেও স্যামসাংয়ের সামনে এটিই হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক পরীক্ষা।
স্যামসাং গত ২০১৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ফোল্ডেবল ফোন বাজারে ছাড়ছে এবং বর্তমানে তাদের গ্যালাক্সি জি ফোল্ড ও ফ্লিপ সিরিজ সপ্তম ও অষ্টম প্রজন্মে পৌঁছে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে হিঞ্জ (কব্জা), ডিসপ্লের স্থায়িত্ব এবং বিশেষ সফটওয়্যার ফিচার নিয়ে কাজ করায় স্যামসাংয়ের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।
Read More: প্রথম ফোল্ডেবল ‘আইফোন ডুও’ উন্মোচন করল অ্যাপল: নতুন সিইও জন টার্নাসের অভিষেক
লাভ-ক্ষতির দ্বিমুখী সমীকরণ
অ্যাপল ফোল্ডেবল ফোন আনায় স্যামসাংয়ের সামনে যেমন বাজার হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনই বড় অঙ্কের আর্থিক আয়ের নতুন সুযোগও খুলে গেছে। কারণ, অ্যাপলের এই নতুন ফোল্ডেবল ফোনে যে উচ্চমানের ফ্লেক্সিবল ওএলইডি (OLED) ডিসপ্লে প্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে, তার একটি বড় অংশের মূল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হলো ‘স্যামসাং ডিসপ্লে’।
ফলে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে সরাসরি লড়াই চললেও যন্ত্রাংশ বিক্রি বাবদ অ্যাপলের কাছ থেকে বড় ধরনের রাজস্ব আয় করবে স্যামসাং। তবে ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের ফ্ল্যাগশিপ গ্যালাক্সি ফোল্ডের বিক্রি কতটা ধরে রাখা সম্ভব হবে, সেটিই এখন দক্ষিণ কোরিয়ান ব্র্যান্ডটির জন্য প্রধান বিবেচ্য।
কৌশলগত প্রতিযোগিতা ও দামের ফারাক
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলের ‘আইফোন ডুও’-এর দাম ধরা হয়েছে ১,৯৯৯ ডলার, যা বেশ চড়া। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্যামসাং তাদের ফোল্ডেবল ডিভাইসের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ ও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি পাতলা ডিজাইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (গ্যালাক্সি এআই) এবং পানি-ধুলো প্রতিরোধী কাঠামোর দিক থেকে স্যামসাংয়ের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তাদের বড় সুবিধা দেবে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অ্যাপলের আগমনের ফলে সামগ্রিকভাবে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বৈশ্বিক বাজার অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বড় হবে। এতদিন যারা ফোল্ডেবল ডিভাইসের কার্যকারিতা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন, অ্যাপল আসায় তাদের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
শেষ কথা
স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের লড়াই বহু পুরনো। তবে এবার ফোল্ডেবল ক্যাটাগরিতে তাদের এই সরাসরি দ্বৈরথ সাধারণ প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য নিয়ে আসবে আরও উন্নত উদ্ভাবন ও নতুন অভিজ্ঞতা। স্যামসাংয়ের অভিজ্ঞতা নাকি অ্যাপলের ব্র্যান্ডের জাদু—কে এই নতুন লড়াইয়ে জয়ী হয়, তা সময়ই বলে দেবে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
👉 Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
👉 Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.
