প্রযুক্তির জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন শুধু মুঠোফোনে সীমাবদ্ধ নেই। মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং এবং সার্চ জায়ান্ট গুগল হাত মিলিয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি যৌথভাবে তাদের প্রথম এআই চালিত স্মার্ট চশমার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এই স্মার্ট চশমায় ব্যবহার করা হয়েছে গুগলের জনপ্রিয় ‘জেমিনাই এআই’ এবং নতুন ‘অ্যান্ড্রয়েড এক্সআর’ প্ল্যাটফর্ম।
দেখতে সাধারণ, তবে ভেতরে আধুনিক প্রযুক্তি
সাধারণত আগের স্মার্ট চশমা বা ভিআর হেডসেটগুলো আকারে বড় ও ভারী হতো। তবে স্যামসাং ও গুগল এবার সাধারণ মানুষের ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখে এটি তৈরি করেছে। দেখতে এটি একদম সাধারণ ফ্যাশনেবল রোদচশমার মতোই। ওজন মাত্র ৪৮ গ্রাম, ফলে দীর্ঘ সময় চোখে পরে থাকলেও কোনো ক্লান্তি আসবে না। এতে কোনো অস্বস্তিকর বড় স্ক্রিন রাখা হয়নি, যার কারণে চোখের ক্ষতি হওয়ার ভয় নেই।
Read More: প্রথম ফোল্ডেবল ‘আইফোন ডুও’ উন্মোচন করল অ্যাপল: নতুন সিইও জন টার্নাসের অভিষেক
কী কী কাজ করা যাবে এই চশমা দিয়ে?
চশমাটিতে রয়েছে ছোট একটি ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, খুব ভালো মানের স্পিকার এবং মাইক্রোফোন। ফলে ব্যবহারকারী যা দেখবেন, পেছনের জেমিনাই এআই তাৎক্ষণিকভাবে তা বুঝে উত্তর দিতে পারবে:
-
সহজ অনুবাদ: বিদেশি কোনো দেশে গিয়ে কোনো সাইনবোর্ড বা রেস্তোরাঁর মেনু কার্ড দেখলে চশমাটি সরাসরি তা ব্যবহারকারীর ভাষায় অনুবাদ করে শুনিয়ে দেবে।
-
পথের নির্দেশনা: রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না; চশমার স্পিকারেই পাওয়া যাবে রিয়েল-টাইম অডিও ম্যাপের দিকনির্দেশনা।
-
ছবি ও ভিডিও: কোনো সুন্দর মুহূর্ত সামনে এলে পকেট থেকে মোবাইল বের করার দরকার নেই। চশমার ফ্রেমে হালকা স্পর্শ করে বা কণ্ঠের নির্দেশে সরাসরি ছবি ও ভিডিও ধারণ করা যাবে।
-
কল ও গান: ব্লুটুথের মাধ্যমে ফোনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় অনায়াসে গান শোনা এবং কথা বলা যাবে।
ব্যাটারি ও সংযোগ সুবিধা
চশমাটিতে কোয়ালকমের তৈরি আধুনিক প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। একবার ফুল চার্জ দিলে এটি টানা প্রায় ৯ ঘণ্টা সাধারণ কাজ চালাতে পারবে। এছাড়া এর সাথে থাকা চার্জিং কেসে রাখলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হবে, যা কয়েক দিনের ভ্রমণের জন্য দারুণ উপযোগী। চশমাটি শুধু স্যামসাংয়ের ফোনেই নয়, যেকোনো সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এমনকি অ্যাপলের আইফোনের সঙ্গেও সহজে যুক্ত করে ব্যবহার করা যাবে।
শেষ কথা
স্মার্ট চশমার বাজারে মেটার রে-ব্যানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে এই যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে গুগল ও স্যামসাং। প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য এটি কেবল একটি গ্যাজেট নয়, বরং চোখের পলকেই দৈনন্দিন নানা কাজের সহযোগী হয়ে উঠবে। চলতি বছরের শেষভাগে এটি আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.
