নতুন আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলের মাধ্যমে স্মার্টফোনের দাম ১০০ মার্কিন ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে অ্যাপল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এখন আইফোন ১৮ প্রোর দাম শুরু হচ্ছে ১,১১৯ ডলার থেকে এবং প্রো ম্যাক্সের দাম দাঁড়িয়েছে ১,২৯৯ ডলারে। প্রযুক্তিবিষয়ক প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ভার্জ’-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অ্যাপলের এই পদক্ষেপ কেবল একটি নির্দিষ্ট ডিভাইসের দাম বাড়ানো নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজার আরও বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠার স্পষ্ট পূর্বাভাস।
নেপথ্যে মেমোরি চিপের সংকট ও ‘চিপফ্লেশন’
স্মার্টফোনের দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মেমোরি ও স্টোরেজ যন্ত্রাংশের (DRAM এবং NAND ফ্ল্যাশ চিপ) অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধি। বর্তমান বিশ্বে জেনারেটিভ এআই এবং বড় বড় ক্লাউড ডেটাসেন্টারগুলোর চাহিদা মেটাতে কোটি কোটি উচ্চগতির মেমোরি চিপের প্রয়োজন পড়ছে। সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ স্মার্টফোনের মেমোরি তৈরির চেয়ে এআই সার্ভারের চিপ তৈরিতে বেশি নজর দেওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহৃত চিপের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এই পরিস্থিতিকে অভিহিত করা হচ্ছে ‘চিপফ্লেশন’ নামে।
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস সম্প্রতি জানিয়েছেন, উন্নত ক্যামেরা প্রসেসিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার জন্য বাড়তি র্যাম এবং দ্রুতগতির অন-ডিভাইস চিপের সরবরাহ বজায় রাখতে গিয়ে উৎপাদন খরচ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।
Read More: প্রথম ফোল্ডেবল ‘আইফোন ডুও’ উন্মোচন করল অ্যাপল: নতুন সিইও জন টার্নাসের অভিষেক
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনেও পড়বে প্রভাব
সাধারণত অ্যাপল যখন তাদের কোনো প্রিমিয়াম ডিভাইসের দাম বাড়ায়, তখন অ্যান্ড্রয়েড বাজারের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোও একই পথ অনুসরণ করে। বাজার গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, স্যামসাং, গুগল, শাওমি ও ওয়ানপ্লাসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও একই চিপ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
স্যামসাংয়ের আসন্ন পরবর্তী প্রজন্মের গ্যালাক্সি এস সিরিজ কিংবা গুগলের নতুন ফ্ল্যাগশিপগুলোতেও এই বাড়তি খরচের প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে। ফলে নতুন বছরের শুরুতে যারা নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের আগের চেয়ে অন্তত ৫০ থেকে ১০০ ডলার বা সমপরিমাণ বাড়তি বাজেট রাখতে হবে।
মধ্যম বাজেটের ফোনেও ধাক্কার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, দাম বৃদ্ধির এই ধারা কেবল প্রিমিয়াম বা ফ্ল্যাগশিপ ফোনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মেমোরি ও প্রসেসরের দাম বাড়ায় মধ্যম ও সাশ্রয়ী বাজেটের স্মার্টফোনগুলোতে বড় ধরনের আপস করতে হতে পারে। হয় কোম্পানিগুলোকে দাম বাড়াতে হবে, নয়তো কম দাম ধরে রাখতে গিয়ে র্যাম, স্টোরেজ বা বিল্ড কোয়ালিটিতে কাটছাঁট করতে হবে।
শেষ কথা
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের দাম বাড়ানো পুরো প্রযুক্তি বাজারের জন্য একটি বড় বার্তা। এআই প্রযুক্তির জয়জয়কারের দিনে সেমিকন্ডাক্টরের বৈশ্বিক সংকট যে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে সরাসরি আঘাত হানছে, অ্যাপলের এই পদক্ষেপ তারই বড় প্রমাণ।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Visit our YouTube channel: Khoowab on YouTube
Visit our Facebook Page: A2 News 24 on Facebook
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories.


























