রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশের তরুণ সমাজকে পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রয়াস থাকলে যেকোনো কঠিন সংকট মোকাবিলা করে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
পরিবর্তনের মূল কারিগর তরুণ প্রজন্ম
উদ্বোধনী সমাবেশে উপস্থিত হাজারো তরুণ, স্কাউট সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্ম চাইলে যেকোনো ইতিবাচক রূপান্তর ঘটানো সম্ভব, যার বড় প্রমাণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী এবং ২৫ লাখেরও বেশি স্কাউট ও বিএনসিসি সদস্য রয়েছে। এই বিপুল জনশক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামলে যেকোনো দুর্যোগ বা নাগরিক সমস্যা কার্যকরভাবে সমাধান করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র কীভাবে গড়ে উঠবে এবং পরিচালিত হবে, সেই দায়িত্ব তরুণদেরই নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে হবে। ডেঙ্গু পুরোপুরি বা শতভাগ নির্মূল করা কঠিন হলেও সবার সক্রিয় অংশগ্রহণে অন্তত ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Read More: বাউফলে তীব্র লোডশেডিংয়ে সংকটে মৃৎশিল্প: বন্ধের মুখে অর্ধশত কারখানা
তিন মাসের সমন্বিত কর্মসূচি ও নাগরিক দায়িত্ব
শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা তিন মাস চলবে। ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর, বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্কাউট ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে এই কার্যক্রম তদারকি করা হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসক এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাক্রমে ডিসি ও ইউএনওরা পুরো কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে সমন্বয় করবেন।
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ঘরবাড়ি ও কর্মক্ষেত্রের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দিয়ে সরকারপ্রধান নাগরিকদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা সময় নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কারে ব্যয় করার অনুরোধ জানান। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা এবং পানি জমে থাকা পাত্র ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ সচেতনতাই পারে এডিস মশার বিস্তার রোধ করতে।
আগামী দিনের লক্ষ্য: পরিচ্ছন্ন দেশ
আগামী দিনের জন্য সরকারের মূল নীতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্লোগান দেন—‘পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একটি ছোট অসচেতনতা থেকে তৈরি হওয়া আবর্জনা ও জমা পানি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে পরিবার ও সমাজের মানুষকে বিপদে ফেলতে পারে।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর সংসদ চত্বরে সাজানো ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
উপসংহার
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধের এই বিশেষ অভিযান কেবল একটি সাময়িক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নয়, বরং এটি নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠনের এক সমন্বিত প্রয়াস। নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এই কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেটাই এখন ডেঙ্গু সংকট মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।
Join our community today and stay connected with the future of PET recycling.
Subscribe to see our latest factory tours, production updates, and export success stories
