দেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত ক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। সব ঠিক থাকলে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারই শপথ নিতে পারে নতুন মন্ত্রিসভা। একই দিনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতিও চলছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শপথ পড়াবেন সিইসি: কেন এই সিদ্ধান্ত?
সাধারণত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান বিদায়ী সংসদের স্পিকার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুপস্থিতি এবং ডেপুটি স্পিকারের কারাবন্দি থাকার কারণে সাংবিধানিক জটিলতা এড়াতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
সূত্র জানাচ্ছে, শুক্রবার রাতে বা শনিবারের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের সব প্রস্তুতি শেষ করতে চায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
Read More: নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা’র বিস্ফোরক মন্তব্য: ড. ইউনূসের পদত্যাগ দাবি ও কড়া সমালোচনা
নির্বাচনের ফলাফল ও নতুন সমীকরণ
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাদের শরীক দলগুলো পেয়েছে ৩টি আসন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং তাদের ১১-দলীয় জোটের অন্য শরীকরা ৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। বিপুল এই ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি এখন সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে।
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক ঐকমত্য
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর এক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু এই নির্বাচন একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়েছে, তাই শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়াটিও সেই ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনই সম্ভবত নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন। এরপরই বঙ্গভবনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।
উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে?
নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের পথে এটিই চূড়ান্ত ধাপ। আগামী সপ্তাহটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। এখন দেশবাসীর নজর বঙ্গভবনের দিকে—কে হচ্ছেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য আর কোন পথে হাঁটবে আগামীর বাংলাদেশ।





[…] সোমবার বা মঙ্গলবারই নতুন সরকার: সংসদ স… […]
[…] সোমবার বা মঙ্গলবারই নতুন সরকার: সংসদ স… […]